নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশাল সদর উপজেলার চর আবদানি ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ফার্নিচার ব্যবসায়ী রুবেল হাওলাদারকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
রুবেল হাওলাদারের অভিযোগ অনুযায়ী, আমি চরবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। গত ২১ জুলাই তাঁর চর আবদানি এলাকার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, আমার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লামছড়ি গ্রামের বাসিন্দা তানিয়া আক্তার ও মাহিনুর বেগমের মধ্যে পূর্বের আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয় ঘটনার সময় জানতে পারি।
রুবেলের ভাষ্য, মাহিনুর বেগম এলাকার অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে সহায়তা হিসেবে চাল বিতরণের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করেন এবং প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ টাকা করে নেন। পরবর্তীতে চাল দিয়ে থাকেন। যেহেতু তাঁর ফার্নিচারের দোকানটি চর আবদানি এলাকায় অবস্থিত, তাই স্থানীয়দের এনআইডি কার্ড সাময়িকভাবে তাঁর দোকানে জমা রাখতে বলা হয়। পরে মাহিনুর সেগুলো সংগ্রহ করে নিয়ে যাবেন বলে জানানো হয়েছিল। এ কারণে অনেকেই তাঁর দোকানে এনআইডি কার্ড জমা রাখেন। তবে কোন অর্থ রুবেল গ্রহণ করেননি।
তিনি আরও দাবি করেন, একপর্যায়ে ওই এলাকার তানিয়া আক্তার স্থানীয়দের পরিচয়পত্র দিতে তাঁর দোকানে এলে পরে মাহিনুর বেগমও একইসময়ে সেখানে উপস্থিত হন। এসময় পূর্বের লেনদেন নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়ে তা হাতাহাতির ঘটনায় রূপ নেয়। তখন তিনি নিজে এগিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উভয় পক্ষই নিজেরা নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নেন।
অভিযোগে রুবেল বলেন, ঘটনার পর মাহিনুর বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে এবং তানিয়া আক্তারকে জড়িয়ে বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এতে তাঁর ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
রুবেল হাওলাদার আরও বলেন, তানিয়া আমার ছোট বোনের মতো। তার স্বামীও আমার এলাকার ছোট ভাই। আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককে উপেক্ষা করে আমাকে জড়িয়ে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং মানহানিকর।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, হাতাহাতি করেছে তারা দুইজন। আমি দুজনকে ছাড়িয়ে দিয়েছি। অথচ ঘটনায় আমাকে জড়িয়েও আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে মাহিনুর। এ বিষয়ে তিনি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। এ বিষয়ে জানতে মাহিনুরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
এদিকে উভয়ে যে হাতাহাতি করছে তার ভিডিও সংরক্ষিত রয়েছে। আমি ছাড়িয়ে দিয়েছি সেটিও সেখানে স্পষ্ট বলে জানান ভুক্তভোগী রুবেল।
এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিজ্ঞ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কোন নিরপরাদ মানুষকে হয়রানীর সুযোগ নেই।