বরিশালের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদারের স্পর্শকাতর স্থানে চাপ দিয়ে স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার আলোচিত ঘটনার নেপথ্যে ব্যবসায়িক অর্থ লেনদেন ও পাওনা-পাওনির বিরোধ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশ।
বুধবার নগরীর সদর রোডে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে তারা অভিযোগ করেন, উচ্চ আদালতে চলমান একটি মামলার দোহাই দিয়ে অর্ধশতাধিক শেয়ারহোল্ডারের কোটি কোটি টাকার মূলধন, মুনাফা ও লভ্যাংশ আটকে রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে টাকা ফেরত না পাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক আলোচিত ঘটনাকে সামনে এনে পাওনাদারদের ‘চাঁদাবাজ’ বা রাজনৈতিক পরিচয়ে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে তারা ন্যায্য পাওনার দাবি থেকে সরে দাঁড়ান। তারা আব্দুল আজিজ হাওলাদারের বিচার দাবি করেন এবং এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মোস্তাফিজুর রহমান লিটু ও আবুল কালাম আজাদের মুক্তিরও দাবি জানান।
বক্তাদের ভাষ্য, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধের জের। তাদের অভিযোগ, বিনিয়োগকারীদের পাওনা পরিশোধ না করে বিভিন্ন অজুহাতে বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল আজিজ হাওলাদার। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাছে কারও পাওনা থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। তবে উচ্চ আদালতের একটি আদেশের কারণে কোম্পানির হিসাব-নিকাশ এখনো চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি আব্দুল আজিজ হাওলাদারের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প ও ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এরই মধ্যে ওই ঘটনার পেছনের আর্থিক বিরোধ ও বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে।