সৈয়দ নুর আহসান গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
টানা বৃষ্টি শুরু হলেই ছাদ বেয়ে চুইয়ে পড়ে পানি। ভিজে যায় অফিসের টেবিল-চেয়ার, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আর আলমারিতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সব নথিপত্র। আর এই চরম জরাজীর্ণ অফিস কক্ষে বৃষ্টির পানি থেকে নিজেদের মাথা ও মূল্যবান কাগজপত্র রক্ষা করতে শিক্ষকরা ব্যবহার করছেন পলিথিন। বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ৮৪নং রাখালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন এমনই এক মানবেতর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে শিক্ষকরা তাদের দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৪৩ সালে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত হয়। দীর্ঘ ৮৩ বছর পার হয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষটি আজ পর্যন্ত পাকা ভবন হিসেবে নির্মাণ করা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চালের ফুটো দিয়ে পানি পড়ে পুরো অফিস কক্ষটি যেন পুকুরে পরিণত হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানাজ পারভীন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত অফিস কক্ষটি পাকা ভবন হিসেবে গড়ে তোলার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষা বা বৃষ্টি শুরু হলেই আমাদের আসবাবপত্র ও মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। কাগজপত্র বাঁচাতে ও নিজেদের রক্ষা করতে আমরা মাথায় পলিথিন দিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি। উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় এই স্কুলটি থাকা সত্ত্বেও সরকারিভাবে স্কুলের অফিস কক্ষ নির্মাণের জন্য কোনো বরাদ্দ মেলেনি। বহু আবেদন করেও আমরা সংস্কারের জন্য কোনো ফান্ড পাইনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদের চরম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত আছি। ইতিমধ্যে সরকারি বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তালিকা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ এলেই পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ আলী সুজা জানান, শিক্ষকদের সাময়িক ভোগান্তি লাঘব করতে এবং জরুরি সংস্কার হিসেবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপাতত ঢেউটিন প্রদান করা হবে।
শত বছরের কাছাকাছি বয়সী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এমন জরাজীর্ণ দশা দূর করতে এবং দ্রুত একটি আধুনিক ও পাকা অফিস ভবন নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এ বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।