মোঃ নাসির উদ্দিন (মহিপুর) প্রতিনিধি :
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ এবং কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার অপসারণের দাবিতে কলাপাড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে আলীপুর, মহিপুর ও কুয়াকাটা অঞ্চলের জেলে, ট্রলার শ্রমিক, মৎস্যজীবী প্রতিনিধি এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কাঠের তৈরি ট্রলিং বোট, বটম ট্রলিং পদ্ধতি, বেহুন্দি জালসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের মাধ্যমে নির্বিচারে মাছ আহরণ করা হচ্ছে। এতে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হচ্ছে, বিপুল পরিমাণ মাছের পোনা ও ডিমওয়ালা মাছ নিধন হচ্ছে এবং জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার জেলে পরিবার বর্তমানে জীবিকা সংকটে রয়েছে। মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় অনেক জেলে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। তারা দাবি করেন, অবৈধ ট্রলিংয়ের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২১-২২ অর্থবছরে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রায় ৭ লাখ ৬ হাজার টন মাছ আহরণ হলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা কমে ৬ লাখ ২৮ হাজার টনে নেমে এসেছে। একইভাবে সামুদ্রিক মাছের উৎপাদন ও ইলিশের প্রাপ্যতা আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে বলে দাবি করা হয়।
স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বঙ্গোপসাগরে সকল ধরনের অবৈধ ট্রলিং অবিলম্বে বন্ধ করা, বেহুন্দি জালসহ নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অবৈধ ট্রলিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার কার্যক্রম তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অপসারণ।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, “অবৈধ ট্রলিং বন্ধে আমরা সোচ্চার আছি। বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার অপসারণের দাবির বিষয়ে বলতে গেলে, তিনি এখানে প্রায় পাঁচ বছর ধরে কর্মরত রয়েছেন। অফিসিয়াল প্রক্রিয়ায় তার বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আরিফুজ্জামান বলেন, অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে জেলেদের পক্ষ থেকে একটি স্বারকলিপি পেয়েছি, প্রপার চ্যানেলে তা পৌছে দেয়া হবে।
এদিকে বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তারা দেশের ব্লু ইকোনমি, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এবং উপকূলীয় জেলেদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।