মন্তব্য কলাম ; আসাদুজ্জামান মুরাদ
আমি হতবাক-আমি নির্বাক-আমি হতভম্ব-আমি স্তব্ধ। বরিশালে সাম্প্রতিক হানিট্র্যাপ চক্র উন্মোচিত হওয়ার পর যে নোংরা অনলাইন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা শুধু একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের মুখোশ খুলে দিয়েছে না, বরং আমাদের সমাজে ‘ফেইক আইডি-নির্ভর অপসংবাদিকতা’ কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছে, তার নগ্ন চিত্রও স্পষ্ট করে দিয়েছে।

ছবিতে প্রতিবাদী তিন সাংবাদিক
হানিট্র্যাপ চক্রের নারীর আটক হওয়া এবং অপরাধীদের গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টায় স্থানীয় সাংবাদিকরা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। বরিশালের একজন দায়িত্বশীল সংবাদকর্মী হিসেবে সত্য প্রকাশ করায় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মুরাদ, সাংবাদিক আলামিন গাজি এবং সাংবাদিক আব্দুর রহমানকে লক্ষ্য করে একটি সক্রিয় অপরাধী চক্র পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়ার যে ন্যক্কারজনক চেষ্টা করেছে, তা পুরো গণমাধ্যম অঙ্গনের ওপর সরাসরি হামলা ছাড়া আর কিছুই নয়।
ফেইক আইডির আড়ালে অপপ্রচারের ‘ডিজিটাল অস্ত্র।একটি ফেসবুক ফেইক আইডি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ছবি বিকৃত তথ্যসহ প্রচার, এটা কেবল বিভ্রান্তি নয়, এটি একটি সুসংগঠিত অপরাধমূলক কৌশল।
এমন পোস্ট দেখে অনেকে বিষয়টি না বুঝে শেয়ারও করেছেন, যা অপপ্রচারের আগুনকে আরও ছড়িয়ে দিয়েছে।
অপরাধীরা জানে, সত্য প্রকাশ হলে তাদের মুখোশ খুলে যাবে। তাই তারা পাল্টা আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে, যার শিকার এখন প্রকৃত সাংবাদিকরা।

সনাক্ত হওয়া হানিট্র্যাপ করা অপ-সাংবাদিক তিনজনের ছবি। তবে নাম জানা যায়নি।
এই চক্রের পেছনে শুধু কয়েকজন নয়, ছবিতে শনাক্ত হওয়া তিনজনসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের একটি সক্রিয় নেটওয়ার্ক রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরা দীর্ঘদিন ধরে বরিশালের বিভিন্ন হোটেলকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায়সহ ব্ল্যাকমেইলের মতো অপরাধে লিপ্ত ছিল।
সংবাদ প্রকাশের পরই তাদের অস্থিরতা, ভীতি ও প্রতিপক্ষ তৈরির প্রবণতা,সব মিলিয়ে বোঝা যায়, সত্য প্রকাশ তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ, ন্যায়বিচারের পথে নতুন পদক্ষেপ
প্রতিবাদী সাংবাদিকসহ একজন সরকারি কর্মকর্তা ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, বিষয়টি তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, ডিজিটাল অপপ্রচার এখন কেবল সামাজিক ক্ষতি করে না, বরং অপরাধীদের পালানোর আড়াল হিসেবেও কাজ করে।
সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে নয়; অপরাধীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান আমার। সাংবাদিকেরা রাষ্ট্রের অগ্রভাগে দাঁড়ানো সত্যযোদ্ধা।
যখন তারা অপরাধীদের উন্মোচন করেন, তখনই অপরাধীরা প্রতিশোধ নিতে ভুয়া কনটেন্ট, বিকৃত ছবি, মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার চেষ্টা করে।
এটি সাংবাদিকতা নয়, এটি সংগঠিত সাইবার অপরাধ।
এই ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, অপসংবাদিকতা, হানিট্র্যাপ এবং ডিজিটাল ফাঁদ, একই সুতোয় বাঁধা। সত্যকে থামানো কোন দিনও থামানো যায় না। সত্য সবসময় অবিচল থাকবে এটাই নিয়ম।
আজ একজন সাংবাদিকের ওপর অপপ্রচার, আগামীকাল সত্য প্রকাশে সাহসী যে কেউ এর শিকার হতে পারে।
তাই সমাজকে সতর্ক হওয়ার সময় এখনই। ফেইক আইডির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং প্রকৃত সাংবাদিকতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এসবই আমাদের সবার দায়িত্ব।
সত্য কিছুদিন চাপা থাকতে পারে,
কিন্তু সত্যকে চিরকাল থামিয়ে রাখা যায় না।