বরিশাল নগরীতে অপ-সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে একটি হানিট্র্যাপ চক্র সক্রিয় রয়েছে—এমন অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছে চাঁদমারি এলাকা থেকে নতুল্লাবাদ পর্যন্ত কয়েকটি আবাসিক হোটেল। বিশেষ করে চাঁদমারির হোটেল ‘রয়েল প্যালেস’ এবং নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের পাশে সাবেক ‘বাঙালী হোটেলের’ দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত ‘হোটেল সততা’তে হানিট্র্যাপের কার্যক্রম চালানো হয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে তিন যুবককে এসব হানিট্র্যাপ কর্মকাণ্ডে জড়িত হিসেবে অভিযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত বরিশাল নগরের কোনো গণমাধ্যম কর্মী তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি।

নতুল্লাবাদ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা সমীর দাস এ বিষয়ে বলেন, ভাই, যাদের ছবি দেওয়া হয়েছে তারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত বলে শুনেছি। কিছু দিন আগে হোটেল সততায় এসে একজন মেয়েকে দিয়ে তারা হানিট্র্যাপ করেছিল। ওই মেয়েও চক্রের সদস্য ছিল। এই তিনজন মান্না নামে এক ছাত্রলীগ নেতার অনুসারী বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে তাদের সঠিক নাম জানতে পারিনি। যা জানি, ওদের কাজই হলো মেয়েকে দিয়ে মানুষকে ফাঁসানো।
তিনি আরও জানান, চক্রটি অপ-সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে।
অভিযোগের মূল ছবি ও তথ্য নিয়ে বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করেও সেই তিন যুবকের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরা জানান, ছবিতে থাকা ব্যক্তিরা কোনো নিবন্ধিত গণমাধ্যম বা স্বীকৃত অনলাইন পোর্টালের সাথে সম্পৃক্ত নন। বরিশালের কোনো প্রতিষ্ঠিত সংবাদকর্মী তাদের চিনেন না।
আবাসিক হোটেলগুলো ঝুঁকিতে রয়েছে তদন্তে জানা গেছে, কিছু আবাসিক হোটেলে মালিকপক্ষের অজান্তে চক্রের নারী সদস্যরা নির্দিষ্ট টার্গেটকে ডেকে আনে, পরে সাজানো পরিস্থিতি তৈরি করে ভিডিও ধারণ করা হয়, এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
চাঁদমারির ‘রয়েল প্যালেস’ হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বাইরের কিছু ছেলে-মেয়ে মাঝে মাঝে রুম নেয়। কখনও কখনও অস্বাভাবিক আচরণ নজরে এসেছে। হোটেল কর্তৃপক্ষ এখন বিষয়টি কঠোরভাবে দেখছে।
নতুল্লাবাদ এলাকার ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, হোটেলগুলোতে নজরদারি বাড়ানো দরকার। এ ধরনের চক্রের কারণে নিরীহ মানুষ বিপদে পড়ে, আর শহরের বদনাম হয়।
চাঁদমারির বয়স্ক বাসিন্দা বদরুল হায়দার বলেন, অপ-সাংবাদিকতা এখন বড় সমস্যা। কারো গায়ে সাংবাদিকতার ব্যাজ দেখলেই সবাই ভয় পায়। অথচ অনেকেই প্রতারণার উদ্দেশ্যে পরিচয় ব্যবহার করে।
সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ছবি ও অভিযোগ সামনে আসায় এখনই কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। একাধিক স্থানীয় ব্যক্তি জানান, আবাসিক হোটেলগুলোতে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা, সন্দেহজনক ব্যক্তি বা দলের তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানানো ও অপ-সাংবাদিকতার নামে প্রতারণার বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা
এগুলো জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, হানিট্র্যাপ চক্র সাধারণত দুর্বলতা খুঁজে টার্গেট করে, তাই অপরিচিত কারো ডাকে হোটেলে যাওয়া থেকে বিরত থাকা, কোনো মিডিয়া পরিচয়ের সত্যতা যাচাই ছাড়া বিশ্বাস না করা, ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও কাউকে না পাঠানো এই সতর্কতা সকলের জন্য অত্যন্ত জরুরি।