রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন বরিশালের বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সৌরভ (২২)। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গুলশান লেকের পাশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

প্রাথমিক তথ্যমতে, সৌরভ গুলশানে অবস্থিত একটি দলীয় অফিস থেকে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে লেকের নির্জন অংশে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুহূর্তের মধ্যেই তাকে ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি একাধিক ছুরিকাঘাত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। পথচারী ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ততক্ষণে নিথর হয়ে যান তরুণ এই ছাত্রনেতা।
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
“এটি পূর্ব পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যা” — বিএনপি নেতা:
এ ঘটনাকে রাজনৈতিক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন বাউফল পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, “সৌরভ সাধারণ কোনো কর্মী ছিল না। সে ছিল জাতীয়তাবাদী আদর্শের এক নিবেদিতপ্রাণ সৈনিক। দুঃসময়ে ভয়কে জয় করে যে ছেলেটি রাজপথ আগলে রেখেছিল, তাকেই নৃশংসভাবে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হলো। এটা নিছক অপরাধ নয়—এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।”
তিনি অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সৌরভের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাউফলসহ বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেন।
সূর্যমনি ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা রাহাত হোসেন বলেন, “সৌরভ ভাই ছিলেন সাহস, তারুণ্য আর ন্যায়ের প্রতীক। তিনি ভয়কে পাত্তা দিতেন না। যারা তাকে হত্যা করেছে তাদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা শান্ত হবো না।”
নিহতের পরিবারে বইছে কান্নার মাতম। সন্তান হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা, বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন বাবা। পুরো এলাকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে শোক আর ক্ষোভে।
কে ছিলেন সৌরভ?
বাড়ি: বরিশাল, বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়ন
পরিচয়: ছাত্রদল নেতা ও সক্রিয় কর্মী
রাজনীতি: দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয়
পরিচিতি: দৃঢ়চেতা, নির্ভীক ও দলের প্রতি নিবেদিত এক তরুণ সংগঠক
এ ঘটনায় গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং অপরাধীদের শনাক্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত যাচাই করা হচ্ছে।
একটি তরতাজা প্রাণ নিভে গেছে রাতের অন্ধকারে, রেখে গেছে অসংখ্য প্রশ্ন, কান্না আর ক্ষোভ। দেশ, সমাজ ও রাজনীতি—সবকিছুই আজ হারিয়েছে আরেকজন প্রতিশ্রুতিশীল তারুণ্যকে।