রিপোর্ট ; আসাদুজ্জামান মুরাদ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন পর মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে আটঘাট বেঁধে নামছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। হারানো রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনতে দলটির কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় শীর্ষ নেতারা সরাসরি মাঠে নেমে গণসংযোগ, পথসভা ও উঠান বৈঠক করছেন।
বিএনপির পাশাপাশি বরিশাল বিভাগের এসব আসন ছাড়তে নারাজ বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীও। দলটি বলছে, অধিকাংশ আসনেই তাদের শক্তিশালী সাংগঠনিক অবস্থান রয়েছে এবং ভোটের দিন তারা চমক দেখাতে প্রস্তুত।
বরিশাল কেন্দ্রীয় বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেন, জনগণ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন চায় এবং সেই পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে বিএনপির দিকেই তাকিয়ে আছে ভোটাররা।
বরিশাল মহানগর বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বরিশাল বিভাগের মানুষ সব সময় জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী। ২১টি আসনেই বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে—এ নিয়ে আমরা আশাবাদী।
পটুয়াখালী জেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, দীর্ঘদিন দমন-পীড়নের পরেও বিএনপি মাঠে আছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারণায় আমরা স্পষ্টভাবে এগিয়ে।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামের নেতারা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।
বরগুনা জেলা জামায়াতের এক নেতা বলেন, বরিশাল বিভাগের বহু আসনে জামায়াতের ভোটব্যাংক সুসংগঠিত। মানুষ এখন আদর্শিক রাজনীতির দিকে ঝুঁকছে। আমরা অধিকাংশ আসনেই জয়লাভ করবো।
ভোলা জেলার এক জামায়াত নেতা দাবি করেন, জনগণ দুর্নীতিমুক্ত ও সৎ নেতৃত্ব চায়। জামায়াত সেই বিকল্প শক্তি।
বিভিন্ন জেলার ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াত—উভয় দলের প্রতিই সমর্থন রয়েছে। অনেক ভোটার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।
বরিশাল সদর এলাকার এক ভোটার বলেন, বিএনপি বড় দল, আবার জামায়াতেরও ভালো সমর্থন আছে। আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, তারপর বিবেচনা করে ভোট দেব।
ঝালকাঠির এক তরুণ ভোটার বলেন, যে দল মানুষের কথা বলবে, এলাকার উন্নয়ন করবে—আমরা তাকেই ভোট দেব।
এবারের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণায় বিএনপি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত। তবে জামায়াতও অনলাইন ও সরাসরি সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনই এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সাক্ষী হতে যাচ্ছে। ভোটের ফল অনেকটাই নির্ভর করবে নির্বাচনের পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতির ওপর।
সব মিলিয়ে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা দিন দিন বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত কারা বিজয়ী হবে, তা নির্ধারণ করবে ভোটাররাই—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।