নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে নিখোঁজের দুই দিন পর অটোরিকশাচালক নাজমুল মোল্লা (২৫)-এর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন অটো শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) নগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের নতুনহাট এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হাজার হাজার অটোরিকশাচালক, শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন।
এসময় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাবেক ২৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর ফরিদ উদ্দীন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বাচ্চু ফরাজী, সোনা মিয়ার পুল-নতুনহাট অটো সংগঠনের সভাপতি লাভু, নিহত নাজমুলের চাচা মন্টু মোল্লা এবং যুবদল নেতা সাইফুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, নাজমুল হোসেন একজন পরিশ্রমী, সৎ ও নিরীহ অটোরিকশাচালক ছিলেন। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন অটোরিকশা চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে তাদের দৃঢ় ধারণা। এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো অটোরিকশা শ্রমিক সমাজের জন্য উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে হবে এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শ্রমিক এ ধরনের ঘটনার শিকার না হন। একই সঙ্গে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল ব্যক্তি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, অটোরিকশাচালকরা জীবিকার প্রয়োজনে দিন-রাত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে চালকদের ওপর ছিনতাই, হামলা ও হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই অটোরিকশাচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তারা। পাশাপাশি নাজমুল হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে, সোমবার নগরীর কালিজিরা এলাকায় কালিজিরা নদীতে ভাসমান অবস্থায় নাজমুল হোসেনের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের মাকরকাঠি এলাকার আব্দুল রশিদ মোল্লার ছেলে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সহকারী কমিশনার অলোক কান্তি শর্মা জানান, সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন নাজমুল। পরদিন রোববার তার বাবা বরিশাল এয়ারপোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সোমবার স্থানীয়রা কালিজিরা নদীতে একটি বস্তাবন্দি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।