বরিশালের উজিরপুরে চরমোনাই কামিল মাদরাসার শিক্ষক মুফতী মাসউদ হাসান ফিরোজের বসতবাড়ি জবরদখলের অপচেষ্টা এবং তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল জেলা শাখা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের জেলা সভাপতি উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, মুফতী মাসউদ হাসান ফিরোজ দীর্ঘদিন ধরে চরমোনাই কামিল মাদরাসায় অধ্যাপনা করছেন এবং এলাকায় একজন সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি ২০১৪ সাল থেকে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়নে নিজস্ব জমিতে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে সপরিবারে বসবাস করে আসছেন। ওই জমি ও বাড়ির সকল বৈধ কাগজপত্র তার দখলে রয়েছে এবং দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়ে সম্পত্তিটির মালিকানা নিয়ে কেউ কোনো আপত্তি তোলেনি।
ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগ, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় শাহিন হাওলাদার ও লাভলু চাপরাশির নেতৃত্বে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ওই সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জুন একদল সশস্ত্র ব্যক্তি শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে জবরদখলের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে বলেন, একজন শিক্ষকের বসতভিটা দখলের চেষ্টা এবং তার পরিবারের ওপর হামলার ঘটনা শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং এটি ব্যক্তি নিরাপত্তা, বিচার ব্যবস্থা ও আইনের শাসনের জন্য গুরুতর হুমকিস্বরূপ। তারা অবিলম্বে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জমির কাগজপত্র নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং হামলা ও জবরদখলচেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় ঘটনাটি এলাকায় তীব্র গণঅসন্তোষের জন্ম দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
সংগঠনটির বরিশাল জেলা শাখার সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আরমান হোসেন রিয়াদের স্বাক্ষরিত প্রতিবাদলিপিটি মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।