নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল:
নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, আর্থিক অনিয়ম এবং সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) চিফ অ্যাসেসর মো. নুরুল ইসলামকে প্রশাসক দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রোববার (৭ জুন ২০২৬) বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, মো. নুরুল ইসলামের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া, অনলাইন সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচারিত হয়েছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধিমালার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আদেশে আরও বলা হয়, এসব অভিযোগ ও প্রকাশিত সংবাদের কারণে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় তদন্ত চলাকালীন সময়ে তাকে প্রশাসক মহোদয়ের দপ্তরে বিশেষ কর্মে নিয়োজিত করা হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান-উজ্জামান এবং আইন উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট শাহ আমিনুল ইসলামকে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, তথ্য-উপাত্ত ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।