নিজস্ব প্রতিবেদক:
বরিশালের বাকেরগঞ্জ চরামদ্দির দিয়াচর আলোচিত কৃষক কুদ্দুস হাওলাদার হত্যা মামলার বিচার ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ৩০ লাখ টাকার গোপন সমঝোতা বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। মামলাটি প্রত্যাহার ও বিচার প্রক্রিয়া ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি প্রভাবশালী মহল অর্থ লেনদেনের দফারফা করছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার।
অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি সাগরদী আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে চরামদ্দি ইউনিয়নের গোলাম মোস্তফা, মজিবুর রহমান, তারিকুল ইসলাম মাসুদ, দুইজন আইনজীবী এবং আরও কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নেন। সেখানে মামলাটি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রায় ৩০ লাখ টাকার সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে মামলার কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও রহস্যজনক কারণে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার দাবি করেছে, আসামিরা প্রকাশ্যে এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই।
নিহত কৃষক কুদ্দুস হাওলাদারের স্ত্রী মোসা. আকলিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “মামলার দুইজন আসামি অন্য একটি মামলায় কারাগারে থাকলেও মূল হত্যা মামলার আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এনামুল হক রহস্যজনকভাবে তিনজন আসামির নাম চার্জশিট থেকে বাদ দিয়েছেন। এজন্য আমি আদালতে নারাজি আবেদন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমার স্বামী একজন দরিদ্র কৃষক ছিলেন। অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে সংসার চালাতেন। আমাদের ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। এখন পরিবারে উপার্জনের কেউ নেই। আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। এমনকি লোকমুখে শুনতে পাচ্ছি, মামলা না তুললে বংশে প্রদীপ জ্বালানোর কেউ থাকবে না।”
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩ এপ্রিল ২০২৫ দুপুরে বাকেরগঞ্জ উপজেলার চরাদী ইউনিয়নের দিয়ারচর এলাকায় কুদ্দুস হাওলাদারের তরমুজ ক্ষেত থেকে তরমুজ চুরির ঘটনা ঘটে। তরমুজ নিয়ে যাওয়ার সময় কৃষক কুদ্দুস বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে ৪ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় একই দিন নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মামলার বিচারিক অগ্রগতি সন্তোষজনক নয়। বরং বিভিন্ন মহল থেকে আপস-মীমাংসার চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি অব্যাহত রয়েছে। ফলে পরিবারটি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে।
এ বিষয়ে বাকেরগঞ্জ থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে নিহতের পরিবার দ্রুত সব আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।