রিপোর্ট ; সাইফুল অপূর্ব
বরিশালে নিজের নামে বিচার চাওয়া মানববন্ধনে নিজেই হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করে বিরল দৃষ্টান্ত দেখালেন চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক ও উজিরপুর উপজেলার জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সভাপতি মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজ।
বুধবার সকাল ১১ টায় বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে উপজেলার গুঠিয়া ইউনিয়ন হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে মাদরাসা শিক্ষক মাসউদ হাসান ফিরোজেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি দখল, জঙ্গি প্রশিক্ষক ও প্রতারক আখ্যায়িত করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। এসময় তিনি সেখানে উপস্থিত মাইক হাতে নিয়ে বক্তব্য দেন। এ সময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন মাসুদ হাসান ফিরোজ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ওই মাদরাসা শিক্ষক ও তার পরিবারের ওপর হামলার প্রতিবাদে উজিরপুর উপজেলা চত্বরে গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অভিযুক্ত সাহিন হাওলাদারের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি অতর্কিত হামলা চালায়। এ ঘটনায় উজিরপুর থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই ঘটনার পাঁচদিন পর বুধবার সকালে হিন্দু সম্প্রদায় ওই মাদরাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে। মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজ মানববন্ধনে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন।
মুফতি ফিরোজ বলেন, তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন বিএনপি নেতা শাহীন হাওলাদার করিয়েছেন। হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে তার কখনো কোনো ঝামেলা ছিল না,এখনো নেই। একটি চক্র চাঁদা না পেয়ে হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্যাবহার করে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছেন।
তবে আজকের মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা সুশান্ত কুমার দাস দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন নেতা মাসউদ হাসান ফিরোজ তাদের বসতভিটা ও মন্দিরের জমিও দখল করেছেন। সেখানে স্থাপনার নির্মাণ করে জঙ্গি প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।
বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছি।
এ বিষয়ে মুফতি ফিরোজ জানান,হিন্দু বাড়ি ও শ্মশান থেকে এই জমি বা তার বাস বভন প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। একটি চক্র চাদা না পেয়ে আমার ভবন দখলের চেষ্টা করছে বলে দাবী করেন তিনি।
মামলার বর্ননা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,উজিরপুরের গুঠিয়া বন্দর এলাকায় ২০১২ সালে মুফতি ফিরোজ একটি জমি ক্রয় করেন,এবং ২০১৪ সালে সেখানে একটি ভবন নির্মাণ করেন।এত বছর কারো কোন খোজ খবর না থাকলেও শাহিন হাওলাদারকে চাদা না দেওয়ার পর থেকে তিনজন হিন্দু জমির মালিক দাবী করে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেয় ভবনে।সেই সাইনবোর্ড সরাতেই গুঠিয়া বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক লাভলু চাপরাশি বাহিনী ভবনে হামলা চালায়,যার হাত থেকে রেহাই পায়নি মুফতি ফিরোজের স্ত্রী ও ছোট ছোট ছেলে মেয়ে।
সেই হামলার ঘটনায় মুফতি ফিরোজ বাদী হয়ে বরিশাল এটিএম কোর্ট ও জজ কোর্টে দুইটি পৃথক মামলা দায়ের করেন,যা বর্তমানে চলমান আছে।
তবে হামলা ও চাদার চাওয়ার ঘটনায় জড়িত নন বলে দাবী করেন গুঠিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহীন হাওলাদার। তিনি বলেন আগামীতে ইউপি নির্বাচন,তাই আমার ইমেজকে নষ্ট করার জন্যই এই তাকে জড়ানো হচ্ছে।