সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার তালবাড়ি এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর অধীনে একটি সড়ক সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পর কার্পেটিং করা হয়েছে এবং কাজ শেষ হওয়ার মাত্র তিন দিনের মধ্যেই রাস্তার কার্পেটিং মানুষের হাতের স্পর্শেই উঠে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের সময় রাস্তা যথাযথভাবে পরিষ্কার করা হয়নি। ময়লা-আবর্জনার ওপরই কাজ করা হয়েছে। এছাড়া পাথরের সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বিটুমিন ব্যবহার করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ সময় উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
রবিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা ও এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার মাহিলাড়া-আম্বুলা-ছয়গ্রাম-পয়সারহাট সড়কের বাগধা ইউনিয়নের তালবাড়ি এলাকায় ৫৪০ মিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ২০২৫ সালের অক্টোবরে ২৪ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা ব্যয়ে দরপত্র আহ্বান করা হয়।
দরপত্রে বাবুগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ এলাকার মেসার্স সরদার ট্রেডিং নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. আসাদুজ্জামান। পরে মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে আগৈলঝাড়া উপজেলার দলিল লেখক মো. জাকির মোল্লা কাজটি গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৃষ্টির পরই কার্পেটিং সম্পন্ন করা হয়। কাজ শেষ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে যেতে শুরু করে।
স্থানীয় বাসিন্দা আলমগীর মোল্লা ও শফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তুললে ঠিকাদারপক্ষ তাদের হুমকি-ধমকি দেয়। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই রাস্তার এই অবস্থা হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজের বাস্তবায়নকারী জাকির মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, “বৃষ্টির সময় এক ট্রাক কার্পেটিংয়ের মালামাল এলেও আমি কাজ না করার জন্য বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু এলজিইডি অফিসের এসও (সাব-ওভারসিয়ার) বলেন, কোনো সমস্যা হবে না, কাজ শেষ করতে হবে। এরপর কাজ করা হয়। এখন সেই কারণেই সমস্যা দেখা দিয়েছে।”
ওই সড়ক ব্যবহারকারী ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, “সরকারি উন্নয়নকাজ যদি সঠিকভাবে তদারকি করা হতো, তাহলে আমাদের এমন নিম্নমানের রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হতো না।”
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটির নির্মাণকাজ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিম্নমানের কাজ পুনরায় সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হোক।
ওই কাজের দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডি বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি কাজ শুরু করে দিয়ে ওই স্থান থেকে চলে এসেছি। তার পরে কি হয়েছে তা আমি জানিনা। যে স্থানের কার্পেটিং উঠে গেছে সেই স্থানে পুনরায় কাজ করে দেখা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা এলজিইডি বিভাগের প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, এই কাজের অনিয়মের ব্যাপার বরিশাল এলজিইডি বিভাগের কর্মকর্তারা এসে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। এখন পর্যন্ত এই কাজের বিল দেওয়া হয়নি। পুনরায় কাজ করে না দিলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।