বরিশালের বাকেরগঞ্জে জমির মালিকানা ও দলিল নিয়ে দায়ের করা মামলায় মোজাম্মেল হোসেন গাজী ও শরিফুল ইসলাম গাজী (উজ্জ্বল) নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ। গত ৭ আগস্ট তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনই মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বরিশালের তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া সাত আসামির মধ্যে রয়েছেন।
এর আগে বাকেরগঞ্জের জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলাটি দায়ের করেন মো. সেলিম রেজা (৪২)। আদালতে দায়ের করা সি.আর মামলা নং-৩৭০/২০২৪-এ তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধীয় জমির মালিকানা ও দখল প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আসামিরা বিভিন্ন দলিল ও কাগজপত্র ব্যবহার করেছেন। তার অভিযোগ, এসব নথির মধ্যে জাল দলিল তৈরি ও তা আসল হিসেবে ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে জমির ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার পেছনে রয়েছে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ। সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা কার, কোন দলিল বৈধ এবং বিভিন্ন সময়ে জমির রেকর্ড কীভাবে পরিবর্তিত হয়েছে-এসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
মামলাটি প্রথমে বাকেরগঞ্জ আমলী আদালতে দায়ের করা হয়। পরে মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), বরিশাল-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়।
মামলাটি তদন্ত করেন নজরুল ইসলাম মজুমদার। তদন্তকালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদী ও সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে দলিল ও ভূমি রেকর্ড সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি পুরোনো আদালতের নথি, দলিল, খতিয়ান ও জমি সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হয়। পুরোনো দলিল ও রেকর্ডও যাচাই
পিবিআইয়ের তদন্তে বিরোধীয় জমির কয়েক দশকের পুরোনো নথি পর্যালোচনা করা হয়। এর মধ্যে ১৯৫৯ সালের দলিল ও আদালতের ডিক্রি, ১৯৬৩ সালের দলিল এবং পরবর্তী সময়ের ভূমি রেকর্ড ও হস্তান্তর সংক্রান্ত নথি রয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তদন্তে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি বিভিন্ন দলিলের বৈধতা এবং সেগুলো ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হয়।
এদিকে মামলায় মোট ১১ জনকে আসামি করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সাতজনের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তাদের মধ্যে রয়েছেন-মো. মোজাম্মেল হোসেন গাজী, মো. নিজামুল হক গাজী, মো. এনামুল হক গাজী, মো. আল আমিন মিরাজ গাজী, মো. শরিফুল ইসলাম গাজী (উজ্জ্বল), মো. কামরুল ইসলাম গাজী (রুবেল) ও মো. কামরুল ইসলাম হৃদয় গাজী।
এর মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন গাজী ও উজ্জ্বলকে গত ৭ আগস্ট গ্রেপ্তার করে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।
অন্যদিকে মামলায় থাকা আরও চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পিবিআই।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকার পর মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও দলিল নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।