লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেখা গেছে—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। যদিও ঘটনাটি এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক বা গ্রহণযোগ্য উৎসে নিশ্চিত হয়নি, তবুও বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক সূত্র এবং সামাজিক প্ল্যাটফর্মে ছড়ানো ভিডিও-ছবি রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।
গুঞ্জনে বলা হচ্ছে, তারেক রহমান নাকি সপরিবারে হিথ্রো বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে কয়েক জন প্রবাসী বাংলাদেশি তাকে দেখতে পেয়েছেন বলে দাবি করছেন। তবে এসব দাবি যাচাইযোগ্য নয় এবং কোনোটিকেই এখন পর্যন্ত স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে সরকারি সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে ফিরতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও বাধা নেই। বিদেশ মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, প্রয়োজনে এক দিনের মধ্যেই তাকে “ওয়ান-টাইম ট্রাভেল পাস” ইস্যু করা সম্ভব। যদিও পাসপোর্ট জটিলতা ও অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় এখনও সমাধান হয়নি।
অন্যদিকে বিএনপির শীর্ষ নেতারা বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছেন—“তারেক রহমান দেশে ফিরবেন”, তবে নির্দিষ্ট তারিখ বা পরিকল্পনা প্রকাশ করছে না দল। দলীয় অনেক নেতার ভাষ্য, “দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, এ অবস্থায় তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন যে কোনো সময় ঘটতে পারে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনানুষ্ঠানিক সূত্রের ভিত্তিতে এ ধরনের দাবি বিশ্লেষণ করা সতর্কতাপূর্ণ। তারা মনে করেন, হিথ্রোতে তার উপস্থিতির দাবিটি এখনো গুঞ্জন পর্যায়েই আছে; বাস্তবে তার দেশে ফেরার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি, সরকারের ঘোষিত ‘বাধাহীন নীতিমালা’ এবং দলের অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি—সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরার প্রসঙ্গ আবার সামনে উঠে আসা স্বাভাবিক।
তবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত ‘হিথ্রোতে দেখা যাওয়ার’ দাবি সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, “কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া গুঞ্জনের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।”