মন্তব্য কলাম ; আসাদুজ্জামান মুরাদ
হাদিরা কোটিতে একটা জন্মায়-এটা কোনো অতিশয়োক্তি নয়, বরং সময়ের বাস্তব উচ্চারণ। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর বক্তব্য যতই শোনা যায়, ততই মনে হয়-এই মানুষটি কেবল একজন বক্তা নন, তিনি একটি বিবেক, একটি প্রতিরোধ, একটি জাগ্রত চেতনা।
তার কণ্ঠে আগুন আছে-কিন্তু সে আগুন ধ্বংসের নয়, সে আগুন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তার শব্দে ঝড় আছে-কিন্তু সে ঝড় ক্ষমতার জন্য নয়, সে ঝড় মানুষের অধিকারের জন্য। শের-ই-বাংলা একে ফজলুল হকের মতো দৃঢ়তা আর মাওলানা ভাসানীর মতো আপসহীন সত্যবাদিতা-এই দুই ধারার এক আশ্চর্য মিল দেখা যায় ওসমান হাদীর বক্তব্যে।
তিনি নিজের জন্য লড়েন না। ব্যক্তিগত সুবিধা, পদ-পদবি কিংবা নিরাপত্তার প্রশ্ন তাকে তাড়িত করে না। হাদী লড়েন সেই মানুষের জন্য-যার কণ্ঠ নেই, যার কথা কেউ শোনে না, যে প্রতিদিন নিপীড়নের বোঝা বয়ে বেড়ায়। তার আন্দোলনের মূল দর্শন একটাই-জনগণকে ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া।
আজকের রাজনীতিতে যেখানে অধিকাংশ কণ্ঠ সুবিধাবাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে, সেখানে ওসমান হাদীর মতো মানুষ হয়ে উঠেছেন ব্যতিক্রম। তিনি জানেন, সত্য বলার মূল্য আছে-রক্ত, ক্ষত, নিপীড়ন, এমনকি স্থায়ী ক্ষতিও। তবু তিনি থামেন না। কারণ ইতিহাস কখনো সুবিধাবাদীদের মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে সেই মানুষদের, যারা বুক চিতিয়ে অন্যায়ের সামনে দাঁড়ায়।
ওসমান হাদী আমাদের মনে করিয়ে দেন-নেতৃত্ব মানে নিরাপদ থাকা নয়, নেতৃত্ব মানে আগুনের ভেতর দিয়ে হেঁটে আলো জ্বালানো। তার আন্দোলন কেবল একটি মঞ্চের নাম নয়; এটি একটি সময়ের দাবি, একটি গণচেতনার বিস্ফোরণ।
হয়তো হাদী আগের মতো আর কখনো হবেন না। হয়তো তার জীবনে ক্ষত চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে। কিন্তু ইতিহাসে তিনি থাকবেন-সত্যের পক্ষে অবিচল একজন মানুষ হিসেবে। আর এমন মানুষ সত্যিই কোটিতে একটা জন্মায়।