বরিশালে এক প্রাইভেট শিক্ষিকার লম্পট ছেলে ও তার মায়ের বিরুদ্ধে ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে গত ১৬ অক্টোবর বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের নির্দেশে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ মামলাটি রুজু করে আদালতে পাঠিয়েছে। এদিকে মামলা করার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রী ও তার পরিবার। আসামী আটক না হওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন ধর্ষিতা ও তার পরিবার বলে জানিয়েছেন তারা।
সূত্রে জানা যায়, কোতোয়ালি মডেল থানার মামলা নং-৪৯, তারিখ ১৭/১০/২৫। মামলার আসামিরা হলেন—বরিশাল নগরীর ২৭ নং ওয়ার্ডের ইন্দুরকাঠী এলাকার নওগা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার সোহেলী (৪৫) ও তার ছেলে জিহাদ ওরফে সজিব (২১)। তবে মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অজ্ঞাত কারণে এখনো তাদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ।
মামলা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল নগরীর চৌমাথা এলাকার নবগ্রাম রোডের আর এম স্কুল সংলগ্ন সজিব ম্যানসনে ওই শিক্ষিকা তার বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। প্রাইভেট পড়ার সুবাদে ওই ছাত্রী নিয়মিত শিক্ষিকার বাসায় যাতায়াত করত। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিকার ছেলে জিহাদ ওরফে সজিবের কু-নজরে পড়ে ওই ছাত্রী। এক পর্যায়ে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও প্রেম নিবেদনের মাধ্যমে সে ছাত্রীকে প্রলোভনে ফেলে।
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরানোর সময় সজিব তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ছাত্রীর অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরে সেসব ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। চলতি বছরের ২১ মে বিকেল ৪টার দিকে শিক্ষিকা বাসায় না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত সজিব ওই ছাত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে রাখে।
পরবর্তীতে শিক্ষিকা লুৎফুন নাহার সোহেলী বিষয়টি জেনেও ছেলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ধর্ষিতাকে কাউকে কিছু না বলার জন্য হুমকি দেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মা ও ছেলে মিলে ভিডিও ভাইরাল, হত্যা ও এসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়ে দীর্ঘদিন ওই ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে।
সবশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শিক্ষিকার বসতঘর সজিব ম্যানসনে ওই ছাত্রীকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। এতে অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্ত সজিব তাকে রিকশায় করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। পরে ছাত্রীর অসুস্থতার কারণ জানতে চাইলে সে তার মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে।
ধর্ষিতার মা খাদিজা বেগম বলেন, আমার মেয়েকে জোর করে প্রাইভেট পড়ার নামে বাসায় ডেকে নিয়ে শিক্ষিকা ও তার ছেলে মিলে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। ভিডিও ভাইরাল ও মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এদিকে ধর্ষিতার ডিএনএ পরীক্ষা শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট শীঘ্রই এসে পৌঁছবে।