পাবনার ঈশ্বরদীতে আটটি সদ্যজাত কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পানিতে ফেলে হত্যার হৃদয়বিদারক ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। জন্মের কয়েক দিনের মধ্যেই নিষ্পাপ প্রাণগুলোর এমন নির্মম পরিণতি মানুষকে নাড়িয়ে দিয়েছে গভীরভাবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপদ—সর্বত্রই চলছে তীব্র ক্ষোভ, ঘৃণা ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রবিবার গভীর রাতে উপজেলা আবাসিক এলাকার একটি পুকুরে বস্তাবন্দি অবস্থায় কুকুরছানাগুলোকে ফেলে দেওয়া হয়। সোমবার সকালে পথচারীরা পানিতে ভাসমান বস্তা দেখতে পেয়ে উদ্ধার করলে বেরিয়ে আসে সদ্যোজাত প্রাণগুলোর নিথর দেহ। ঘটনাটি মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

সন্তান হারানো মা কুকুরটির আর্তনাদ ও ব্যথাভরা ছটফটানি দেখে স্থানীয়রা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এলাকাবাসীর অনেকেই বলেন, “মানুষের মধ্যে এত নিষ্ঠুরতা কীভাবে জন্মায়? এরা তো সদ্য পৃথিবীর আলো দেখেছে—ওদের কী অপরাধ ছিল?”
স্থানীয়দের অভিযোগ—একজন সরকারি আবাসিক এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিয়মিত ওই কুকুরটিকে বিরক্ত করতেন এবং অবশেষে ছানাগুলো হত্যা করার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই। যদিও অভিযুক্ত পরিবার প্রাথমিকভাবে দায় অস্বীকার করেছে, তবু এলাকাবাসীর বক্তব্যে ঘটনার নেপথ্য রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। এলাকাবাসী পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত তদন্তে নামার আহ্বান জানিয়েছেন মানবিক ও প্রাণী অধিকারকর্মীরা।
আইনজীবী ও অধিকারকর্মীরা বলছেন, পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ধরনের নির্মমতার বিচার না হলে সমাজে অমানবিকতার বিস্তার আরও বাড়বে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো মানুষ শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখেছেন, মানুষই যদি সৃষ্টির সেরা হয়, তবে এই অসহায় প্রাণগুলোর প্রতি এমন আচরণ কীভাবে সম্ভব?”
“অপরাধী যেই হোক, তার বিচার হওয়া উচিত।”
এই ঘটনা শুধু আটটি প্রাণহানির গল্প নয়-এটি মানবিকতার প্রতি এক গভীর প্রশ্ন। সমাজ কি সত্যিই এগোচ্ছে, নাকি পেছনের অন্ধকারেই ছটফট করছে?
স্থানীয়রা জানান, এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন ও আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।