রিপোর্ট ; সাইফুল অপূর্ব ;
সৈয়দ ফয়জুল করীম-কে নিয়ে দায়ের হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জামায়াত-সমর্থিত জোটের পর্দানশীন নারী সংসদ সদস্যকে নিয়ে কুমিল্লার প্রবীণ সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম-এর এক বক্তব্যের সমালোচনা করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম।
একটি ইসলামী সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “সব দাড়ি-টুপি মদিনার দাড়ি-টুপি নয়। রবীন্দ্রনাথেরও দাড়ি ছিল, কিন্তু সেই দাড়ি মদিনার দাড়ি ছিল না।”
শায়েখে চরমোনাইয়ের এ বক্তব্যকে ‘কটূক্তিমূলক’ উল্লেখ করে কুমিল্লার এক যুবদল নেতা তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বলেছে, দলের সিনিয়র নায়েবে আমীর ও দেশের একজন সম্মানিত আলেমের বিরুদ্ধে ‘অযৌক্তিক’ মামলা করা হয়েছে।
দলটির কেন্দ্রীয় এক শীর্ষ নেতা জানান, আগামীকালের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার না করা হলে শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এরপরও মামলা প্রত্যাহার না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা আসতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
এদিকে মামলার বিষয়ে সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, “এমন হাজারো মামলা হলেও আমি হতাশ বা শঙ্কিত নই। এমনকি এই মামলায় আমি জামিনও চাইব না।”
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নেতা মাওলানা নাসির উদ্দিন নাইস বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট আমলেও ইসলামের পক্ষে কথা বলার কারণে শায়েখে চরমোনাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। এখন বিএনপিও যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে তা সরকারের জন্য সুখকর হবে না।”
অন্যদিকে চরমোনাই কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মুফতি মাসউদ হাসান ফিরোজ বলেন, “২৪-এর আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা ছিলেন শায়েখে চরমোনাই। আন্দোলনের পর বিভিন্ন দল নানা সুবিধা পেলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো সুবিধা নেননি। বরং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন।”
তবে এ মামলার বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট থানা থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।