বরিশালের সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে অনিশ্চয়তা ও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষের পদও শূন্য থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন শিক্ষা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতার দিক থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য সবচেয়ে যোগ্য বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি বড় অংশ।
ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বেসরকারি মাদরাসাসমূহের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরির শর্তাবলি সংক্রান্ত প্রবিধান-২০২৩ (সংশোধিত)-এর ১২(ক) ধারায় উল্লেখ রয়েছে, কোনো মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পদ শূন্য হলে অথবা অধ্যক্ষের অবর্তমানে প্রথমে উপাধ্যক্ষকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করতে হবে। তবে উপাধ্যক্ষের পদ শূন্য থাকলে আরবি বা ইসলামি বিষয়ের শিক্ষকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট প্রবিধানেও উল্লেখ রয়েছে, একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকলে শিক্ষাগত যোগ্যতায় যিনি অগ্রগণ্য, তাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে মনোনীত করার বিধান রয়েছে।
শিক্ষক ও অভিভাবকদের দাবি, এসব বিধান অনুসারে মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেনই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রচলিত আইন, সরকারি প্রবিধান ও জ্যেষ্ঠতার নীতিমালা অনুসরণ করে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।
এদিকে জানা গেছে, আজ সোমবার এ বিষয়ে সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে বরিশালের জেলা প্রশাসক মতবিনিময় করবেন। ওই সভায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এর আগেও সাগরদী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়া জানা গেছে, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন ছারছীনা দরবার শরীফের অনুসারী। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছারছীনা দরবার শরীফ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে স্থানীয়রা জানান, মাওলানা দেলোয়ার জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে এই মাদ্রাসায় অত্যন্ত সুনামের সাথে ইতিপুর্বে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেছেন। ওইসময়ে কিছু অসাধু শিক্ষক ও সামান্য কিছু শিক্ষার্থী তাকে ষড়যন্ত্র করে টানা ৭ ঘন্টা মাদ্রাসায় তার কক্ষে অবরুদ্ধ রেখে জোরপুর্বক অন্যায়ভাবে পদত্যাগে বাধ্য করায়। এ বিষয়ে সুবিচার চেয়ে তিনি উচ্চ আদালতে পর্যন্ত রীট দায়ের করেছিলেন। তিনি সুবিচার চান।
এ বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রত্যাশা, সব ধরনের আইনি বিধান, সরকারি প্রবিধান, জ্যেষ্ঠতা এবং শিক্ষাগত যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিকেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হবে। তাদের মতে, এতে প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।