এম. ইয়ামিন আহমেদ| কলাপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নে মক্তবে পড়তে আসা কোমলমতি শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের এক চাঞ্চল্যকর ও ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে। এই ধারাবাহিক নির্যাতনের বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই ইমামকে গণধোলাই দিয়ে মহিপুর থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে।
আজ শনিবার (২৩ মে) সকালে লতাচাপলী ইউনিয়নের আরামখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
### দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও ঘটনা ফাঁসের বিবরণ
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আরামখোলা গ্রামের একটি স্থানীয় মসজিদে প্রতিদিন সকালে এলাকার শিশুরা কোরআন ও কায়দা শিক্ষা নিতে আসতো। ওই মসজিদের ইমাম দীর্ঘদিন ধরে মক্তবে পড়তে আসা সরল-সোজা শিশুদের ফুসলিয়ে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত কোনো না কোনো শিশুর ওপর পাশবিক ও যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। লোকলজ্জা ও ভয়ে শিশুরা এতোদিন মুখ না খুললেও, সম্প্রতি ভুক্তভোগী শিশুরা বিষয়টি তাদের পরিবারের কাছে খুলে বলে। এরপরই ঘটনাটি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
আজ শনিবার সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা একত্রিত হয়ে ওই লম্পট ইমামকে আটক করে উত্তম-মধ্যম (গণপিটুনি) দেয়।
খবর পেয়ে মহিপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তারা অভিযুক্ত ইমামকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।
এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি
এ বিষয়ে লতাচাপলী ইউনিয়নের স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করে বলেন,
ধর্মীয় শিক্ষার মতো একটি পবিত্র জায়গায় বসে যিনি শিশুদের সাথে এমন জঘন্য ও বিকৃত কাজ করতে পারেন, তিনি কোনোভাবেই ইমাম পদের যোগ্য নন। সে পশুর চেয়েও অধম। আমরা এই লম্পট ও বিকৃত মানসিকতার ইমামের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন সাহস না পায়।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনগত পদক্ষেপ
এ ব্যাপারে মহিপুর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ইমামকে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ ও মামলার প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অপরাধীকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।