বরিশাল নগরের ভাটার খাল এলাকায় আবারও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতা মাসুমকে আটক করতে গেলে পুলিশের ওপর হামলা করে কামড়ে আহত করে সে পালিয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন—“এ যেন দুঃস্বপ্নের মতো, আমরা প্রতিদিন আতঙ্কে বাঁচি।”
শনিবার গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ভাটার খালের বস্তি এলাকায় অভিযান চালায়। মাসুমকে হাতেনাতে ধরতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশকে ধাক্কা মেরে, এমনকি এক কনস্টেবলের হাতে কামড় দিয়ে আরও ২জনকে আহত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ভয়–উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
একাধিকসূত্র জানায়, মাসুম দীর্ঘদিন ধরে ভাটার খাল এলাকায় মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, ভয় দেখানো এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও সে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বারবার আইনের হাত এড়িয়ে যাচ্ছে।
ভাটার খালের একজন বয়োজ্যেষ্ঠ বাসিন্দা কণ্ঠ ভারি করে বলেন,আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। কে কখন মাদক ব্যবসায়ী দলের গোলাগুলি হবে, কে কাকে মারবে—তার কোনো হিসাব নেই। মাসুম বাইরে থাকলে মনে হয় পুরো এলাকা যেন তার দখলে।”
এক নারী বাসিন্দা চোখের পানি মুছে বলেন,“আমাদের বাচ্চারা রাস্তায় খেলতে পারে না। রাত তো দূরের কথা, দিনে বের হতেই ভয় লাগে। এত সন্ত্রাসী একজন মানুষ কিভাবে আবার পালায়—এটা ভাবতেই ভয় লাগে।”
বরিশালের সুশীল সমাজ বলছে, এমন একজন দাগী সন্ত্রাসীর হাত থেকে পুলিশও যখন নিরাপদ নয়, তখন সাধারণ মানুষের অবস্থাটা সহজেই অনুমেয়।
স্থানীয় এক সমাজকর্মী ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন,“মাসুমের মতো অপরাধীরা শুধু একটা এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে না—পুরো সমাজের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে যুবসমাজ আরও বেশি ঝুঁকিতে পড়বে।”
আরেকজন নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি বলেন,ভাটার খালকে মাদকমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি। মাসুমের মতো অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, নইলে এই এলাকা আর কখনো শান্ত হবে না।”
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাসুমকে গ্রেপ্তারের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ টিম কাজ করছে। সে যেখানেই লুকাক, তাকে আটক করা হবে। স্থানীয়দের নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।”
তবে পুলিশের ওপর হামলা এবং কামড় দিয়ে পালিয়ে যাওয়া ঘটনাকে তিনি ‘সন্ত্রাসের চরম দুঃসাহস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ঘটনার পর থেকে ভাটার খালে টহল বাড়ানো হয়েছে। রাতে রাস্তাঘাট ফাঁকা, মানুষজন দরজা–জানালা বন্ধ করে সতর্কতার সঙ্গে দিন পার করছে। স্থানীয়দের ভাষায়,“এলাকার আকাশে যেন ভয়ার্ত নিস্তব্ধতা।”