বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পলাতক মেয়র সেরনিয়াবাত আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ (খোকন সেরনিয়াবাত)–এর ভাড়া বাসা থেকে গভীর রাতে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে রাতের আঁধারে বাসাটি থেকে মালামাল সরিয়ে নেয়।
সূত্রমতে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গভীর রাতে মেয়র খোকন সেরনিয়াবাত হঠাৎ বরিশাল ত্যাগ করেন। শহরের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনকালে মাত্র ৮–৯ মাসেই তিনি শত কোটি টাকারও বেশি অনিয়ম ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পালিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িভর্তি নগদ অর্থ সঙ্গে নিলেও ভাড়া বাসায় থাকা মালামাল তখন সরিয়ে নিতে পারেননি।
ভাড়া বাড়ির মালিক সূত্র জানায়, মেয়র চলে যাওয়ার পর প্রায় ১৬ মাস ধরে বাসাটি ফাঁকা অবস্থায় ছিল। এই সময়ে নিজেদের মেয়রের লোক পরিচয় দিয়ে কয়েক দফা মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরিচয় ও বৈধ কাগজপত্রের অভাবে অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে সম্প্রতি গভীর রাতে সেই মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। প্রতিবেশীরা জানান, রাত আনুমানিক ২টা থেকে ৩টার মধ্যে একটি ট্রলার ও একটি মাইক্রোবাস বাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। ৬–৭ জন ব্যক্তি দ্রুত মালামাল তুলতে থাকেন। প্রশ্ন করা হলে তারা নিজেদের ‘মেয়রের লোক’ পরিচয় দিয়ে তড়িঘড়ি এলাকা ত্যাগ করেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পুরো ঘটনাটি সমন্বয় করেন বরগুনার বেতাগীর রুবেল নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, তাকে সহযোগিতা করেছেন আমানতগঞ্জ এলাকার এক সাবেক কাউন্সিলর এবং এলাকায় পরিচিত এক ইয়াবা ব্যবসায়ী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতের অপারেশনে তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
এছাড়া ঘটনাস্থলে গ্যাস ডিলার আসিফ ইকবাল উপস্থিত ছিলেন বলেও একাধিক সূত্র দাবি করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ট্রাকের কাছে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলেন।
ঘটনার পরদিন ভাড়া বাসাটি পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, একটি দরজায় জোরপূর্বক প্রবেশের চিহ্ন, মেঝেতে অস্বাভাবিক পায়ের ছাপ এবং ছেঁড়া টেপ ও মোড়কের অংশ পড়ে আছে। প্রতিবেশীরা জানান, এসব চিহ্ন আগের দিন ছিল না।
ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও তদন্ত বা কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।
পলাতক মেয়রের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতির অভিযোগ, ভাড়া বাসা থেকে মালামাল সরানোর একাধিক ব্যর্থ চেষ্টা এবং অবশেষে গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা—সব মিলিয়ে বিষয়টি নিয়ে বরিশালে নতুন করে আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন।