বরিশাল কর অঞ্চলের কর কমিশনারের কার্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হয়েও কোটি টাকার মালিক হয়েছেন কম্পিউটার অপারেটর মিজ্ সানজিদা শারমিন (ডাক নাম লাভলী)। ২০ বছরের চাকরি জীবনে সরকারি বেতন মাত্র ৪০ হাজার টাকা হলেও তিনি গড়ে তুলেছেন অভিজাত জীবনযাপন ও অঢেল সম্পদ।
লেটেস্ট প্রিমিও গাড়িতে অফিস যাতায়াত:
সূত্র জানায়, মিজ্ সানজিদা শারমিন প্রতিদিন অফিসে যান নিজস্ব লেটেস্ট মডেলের প্রিমিও গাড়িতে। এমনকি ওই গাড়ির চালককেও মাসে বেতনের প্রায় অর্ধেক টাকা পরিশোধ করেন তিনি।
ফ্ল্যাট, জমি, স্বর্ণালংকার—সবই চাকরির টাকায়?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশাল শহরের অক্সফোর্ড মিশন রোডে অর্ধকোটি টাকায় ফ্ল্যাট কিনেছেন লাভলী। তার নামে ও বেনামে রয়েছে একাধিক জমি, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর), সঞ্চয়পত্র ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার।
কিন্তু এত সম্পদের উৎস কোথায়—এই প্রশ্নে কর অফিসের ভেতরে চলছে ব্যাপক গুঞ্জন।
‘ঘুষের রাণী’ উপাধি;
কর অফিসের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, মিজ্ সানজিদা শারমিন ঘুষ ও অনিয়মের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। ফাইল বিলম্ব করা, ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকদের ফাইল ‘ম্যানেজ’ করা, এমনকি গোপন কর-নথি ফাঁস করার মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন— “৪০ হাজার টাকার বেতনে কেউ যদি প্রিমিও গাড়ি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়, তাহলে বোঝা যায় দুর্নীতি কতটা গভীরে গেছে। তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে সানজিদা শারমিন বলেন, “আমার গাড়ি ও ফ্ল্যাট আছে, এটা সত্যি। কিন্তু আমি অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন করেছি—এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
তবে তার এই ব্যাখ্যা সহকর্মীদের অনেকের কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি।
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,
যদি কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী জ্ঞাত আয়ের বাইরে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করে, তবে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্ত হওয়া জরুরি। বিচার না হলে সমাজে এই ধরনের অপরাধ আরও উৎসাহিত হবে।”
কর বিভাগ ও প্রশাসনের সুনাম রক্ষায় স্থানীয় সচেতন মহল দাবি জানিয়েছে, সানজিদা শারমিনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় মামলা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান শুরু করা উচিত।
একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বিলাসবহুল জীবনযাপন ও কোটি টাকার সম্পদ অর্জন কেবল প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্যই নয়, সমাজের নৈতিকতার জন্যও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। এখন দেখার বিষয়—দুর্নীতির এই জাল কতদূর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে, এবং কর্তৃপক্ষ আদৌ ব্যবস্থা নেয় কি না।