নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সুমনের বিরুদ্ধে প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারি সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকরা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে গিয়ে সহকারী প্রকৌশলী মো. সুমনকে অফিসে পাননি। এ সময় অফিসের দায়িত্বে থাকা স্টাফ হুমায়ুন জানান, স্যার সকালে কিছু সময়ের জন্য অফিসে এসেছিলেন। পরে মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে চলে গেছেন।
তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে মো. সুমন বলেন, তিনি জেলা কার্যালয়ে অবস্থান করছেন। একইসাথে তিনি নিয়মিত অফিসে আসেন বলে জানান। তবে স্থানীয় ও সেবাপ্রাত্যাশীদের অভিযোগ ভিন্ন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে প্রায়ই কর্মঘণ্টায় অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, ফাইল নিষ্পত্তি, অনুমোদনসহ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে অফিসে এসে অনেককেই কর্মকর্তা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, প্রকৌশলীকে প্রয়োজন হলেই অফিসে পাওয়া যায় না। কয়েকবার এসে ফিরে গেছি। পরে বলা হয় তিনি অফিসে নেই বা বাইরে গেছেন। এতে আমাদের সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, সরকারি অফিসে জনগণের সেবা নিশ্চিত করার জন্য কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু প্রায়ই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে না পাওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, একটি কাগজে স্বাক্ষরের জন্য কয়েকদিন ধরে অফিসে আসতে হচ্ছে। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে না পেয়ে বারবার ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে সরকারি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়িত্বে অবহেলার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা জানান বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
এ বিষয়ে বরিশাল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ ইমরান তরফদারের ফোনে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি