চাঁদাবাজি, আর্থিক অনিয়ম এবং বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেনকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে তাকে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নেওয়া হয়। পরে রাত প্রায় ১১টা পর্যন্ত তিনি থানায় অবস্থান করেন। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মোশাররফ হোসেন বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ারের ছোট ভাই।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালের পরিচালনা পদ্ধতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোশাররফ হোসেনের কাছে তথ্য জানতে চাওয়া হয়।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের অভিযোগের পর তাকে বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোশাররফ হোসেন। তার দাবি, বাস ও মাহিন্দ্রা শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধ এড়ানো এবং ‘ভাই-ভাইয়ের মধ্যে’ বিরোধ তৈরি না করার বিষয়ে তাকে সতর্ক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম বলেন, নথুল্লাবাদ টার্মিনাল কীভাবে পরিচালিত হয়, আগে কীভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং বর্তমানে কীভাবে চলছে-এসব বিষয়ে তথ্য জানতেই মোশাররফ হোসেনকে থানায় ডাকা হয়েছিল। টার্মিনালকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির কোনো মামলা নেই বলেও জানান তিনি।
এদিকে মোশাররফ হোসেনের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে-এমন আলোচনা থাকলেও পুলিশ এ বিষয়ে নিশ্চিত করেনি। জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি।
নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা অভিযোগ ও আলোচনা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।