বরিশাল নগরীতে সক্রিয় হানি ট্র্যাপ চক্রের এক নারী সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর ভাটিখানা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। এসময় চক্রের আরও পাঁচ সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ঙ্কর এই চক্রটি সক্রিয় ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী জানান, ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক নারী তাকে দেখা করার প্রস্তাব দেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাতেম আলী কলেজ চৌমাথা থেকে নবগ্রাম রোড, নাজিরের পোল হয়ে তাকে নতুন ভাটিখানার একটি টিনসেট বাসায় জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চার নারী লাইট নিভিয়ে বিভিন্নভাবে জোরজবরদস্তি করে। একপর্যায়ে চক্রের সদস্যরা তাকে বাসার ভেতর রেখে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর সহকর্মীরা গিয়ে এক নারী সদস্যকে আটক করে স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির কাছে হস্তান্তর করেন। এসময় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে গেলে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে চরমোনাই ইউনিয়নের কবির হাওলাদারের ছেলে রিমন হাওলাদার (২২) ‘বরিশাল সংবাদ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালের সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া এক যুবককে সন্দেহজনক দেখে আটক করা হয়। তাকেও পরে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
স্টিমারঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মো. নাসিম জানান, আটক নারী সদস্য পাখি আক্তার নিশি (২৬) ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কাজ চলছে। এএসআই কাইয়ুম, এসআই মাহাবুব, আমিনুল, জামালসহ পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকাজুড়ে চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করছে কিনা— তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। পুলিশের ধারণা, চক্রটি সংগঠিতভাবে কাজ করছে এবং তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।