বরিশালে কীর্তনখোলা নদীর প্রাণকেন্দ্র চরকাউয়া খেয়াঘাট ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয়রা। ইজারা বন্ধে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে গতকাল বুধবার বিকেলে চরকাউয়া খেয়াঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। গণসংহতি আন্দোলনের বরিশাল জেলা শাখার ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে মাঝি–মাল্লা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের খেয়া ব্যবহারকারীরা একত্রিত হয়ে ইজারা নীতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানান।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সমন্বয়কারী দেওয়ান আবদুর রশীদ নীলু। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের বরিশাল জেলা সাধারণ সম্পাদক রাইদুল ইসলাম সাকিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও খেয়াপারাপারকারীরা।
নিয়মিত যাত্রীদের অভিযোগ—নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেয়া ভাড়াও বেড়েছে। এরই মধ্যে আবার ঘাট ইজারা দিলে ভাড়ার বোঝা আরও বাড়বে, যা সরাসরি সাধারণ যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। অতীতে খেয়াঘাট ইজারা থাকাকালে ব্যাগ–মালামালের জন্য বাড়তি টাকা আদায়সহ নানা ধরনের অনিয়ম ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
আয়োজকেরা বলেন, চরকাউয়া খেয়াঘাট বহুদিন ধরে মাঝি, মাল্লা ও যাত্রীদের সমন্বয়ে স্বাভাবিকভাবে চলে আসছে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ ইজারা প্রক্রিয়ায় নিলে তা জনভোগান্তি বাড়ানোর শামিল হবে।
মানববন্ধনে বক্তারা স্পষ্ট করে জানান, ঘাট ইজারা দিয়ে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন।
চরকাউয়া খেয়াঘাটকে কেন্দ্র করে বরিশালের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত—এ কারণে স্থানীয়দের দাবি, ‘জনস্বার্থে ইজারা নয়, খেয়া চলবে আগের নিয়মেই।’