বরিশাল নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় মসজিদ কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জন গুরুতর অবস্থায় শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় ব্রাউন কম্পাউন্ড জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কমিটি গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের মতবিরোধ চরম আকার ধারণ করায় কথা-কাটাকাটি থেকে মুহূর্তেই সংঘর্ষ রক্তক্ষয়ী রূপ নেয়।
সংঘর্ষের বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসন্ন মসজিদ পরিচালনা কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আজ মাগরিবের নামাজের পর কমিটি গঠন সংক্রান্ত আলোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চেয়ার, লাঠি, বাঁশ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষ চলাকালে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। মসজিদ প্রাঙ্গণে কান্না, চিৎকার, আতঙ্ক আর দৌড়াদৌড়ির মধ্যে তৈরি হয় ভয়াবহ পরিস্থিতি। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির হাওলাদার বলেন—
> “মাগরিবের নামাজ শেষ হওয়ার পর কমিটি নিয়ে কথা উঠতেই হঠাৎ চিৎকার শুরু হয়। এরপর দেখি দুইপক্ষ মারামারি শুরু করে দিয়েছে। বড়রা আর ছোটরা কেউ নিরাপদ ছিল না। মসজিদেই রক্ত পড়তে দেখেছি, যা কখনো কল্পনাও করিনি।”
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী নারী, আসমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন—
> “যেখানে মানুষ আল্লাহর কাছে শান্তির জন্য সেজদা দেয়, সেখানে আজ রক্ত ঝরেছে। বাচ্চারা ভয়ে দৌড়ে পালিয়েছে। আমরা আতঙ্কে ঘরের দরজা বন্ধ করে রেখেছিলাম।”
স্থানীয় যুবক সোহেল বলেন—
> “আমরা কমিটি চাই, নেতৃত্ব চাই, কিন্তু রক্ত চাই না। মসজিদ তো ঐক্যের জায়গা, আজ সেটাই বিভেদের আগুনে পুড়ল।”
আহতদের অবস্থা
শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহত ১২ জনের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মাথায় আঘাত, কাটা-ছেঁড়া ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, সংঘর্ষে জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে এবং এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ওসি বলেন—
> “ঘটনার তদন্ত চলছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। মসজিদের পরিবেশ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।”
শেষ কথা
যে মসজিদ শান্তি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক, সেখানে আজ রক্তের দাগ—এ দৃশ্য মেনে নেয়া কঠিন। ধর্মীয় উপাসনালয় কখনোই সংঘাত বা ক্ষমতার মঞ্চ হতে পারে না। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন দ্রুত সমাধান করে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনুক।