রিপোর্ট ; জামাল কড়াল
লাভের লোভে মানুষের জীবনের সঙ্গে নির্লজ্জ প্রতারণা—ভেজাল ও বিষাক্ত খাবার পরিবেশন করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। এছাড়াও সাধারণ মানুষকে অসুস্থ করে তোলার অভিযোগে বরিশাল নগরীর রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার দুই রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
বিএসটিআইয়ের নির্দেশনা অমান্য, পোড়া ও পুনর্ব্যবহৃত তেলে খাবার প্রস্তুত এবং মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর নিষিদ্ধ কেওড়াজল সংরক্ষণের মতো ভয়াবহ অপরাধে হুমাহুম ও খাবার বাড়ি রেস্তোরাঁকে মোট ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বিশুদ্ধ নিরাপদ খাদ্যের সংক্ষিপ্ত আদালতের উদ্যোগে নগরীর রুপাতলী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই রেস্তোরাঁ দু’টি ভোক্তাদের প্লেটে তুলে দিচ্ছিল অস্বাস্থ্যকর ও বিষাক্ত খাবার—যা নীরবে মানুষের শরীরে জন্ম দিচ্ছে জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধি।
অভিযোগ রয়েছে, খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত উপকরণগুলো ছিল এক কথায় মৃত্যুর উপকরণ। এসব খাবার গ্রহণ করে অসংখ্য ভোক্তা পেটের রোগ, লিভার জটিলতা, কিডনি সমস্যা ও ক্যান্সারের ঝুঁকিতে পড়ছে—যার দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ।
অভিযানকালে বিএসটিআই লাইসেন্সের শর্ত না মানা, পোড়া তেলে খাবার প্রস্তুত এবং নিষিদ্ধ কেওড়াজল সংরক্ষণ করার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় হুমাহুম ও খাবার বাড়ি রেস্তোরাঁকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য রেস্তোরাঁ মালিকদের কড়া ভাষায় সতর্ক করা হয়।
এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরিয়তউল্লাহ এবং মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিরাজুল ইসলাম রাসেল। অভিযানে সহায়তা করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা সিভিল সার্জন অফিস, বিএসটিআই, সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির জানান, মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে যারা ছিনিমিনি খেলবে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। জনস্বাস্থ্যের বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ দমন করতে এ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে।
সচেতন মহলের মতে, এই অভিযান শুধু একটি জরিমানা নয়—এটি ভেজাল খাদ্য কারবারিদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা। মানুষের খাবার নিয়ে যারা ব্যবসার নামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এখনই সামাজিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা না গেলে বিপর্যয় অনিবার্য।