নিজস্ব প্রতিবেদক।।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল ইনজেকশন পুশ করার ঘটনায় দুই রোগীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত এক নার্সের বিরুদ্ধে গুরুতর অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ওই নার্স হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৬টা থেকে ৬টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হাসপাতালের ৪র্থ তলার (এফ) নাক, কান ও গলা (ইএনটি) ইউনিটে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্র ও নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, ওই ইউনিটে দায়িত্বরত নার্স মোনালি ভুলবশত অ্যান্টিবায়োটিক মনে করে ‘নরকিউ’ (Norcuron) নামের একটি শক্তিশালী ইনজেকশন দুই রোগীর শরীরে ক্যানোলার মাধ্যমে পুশ করেন।
জানা গেছে, দুই মিনিটের ব্যবধানে তিনি পরপর দুই রোগীকে ইনজেকশনটি দেন। ইনজেকশন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই তারা মৃত্যুবরণ করেন।
চিকিৎসকদের মতে, ‘নরকিউ’ মূলত অ্যানেস্থেশিয়া বিভাগের অধীনে অপারেশনের সময় ব্যবহৃত একটি শক্তিশালী ওষুধ। এটি সাধারণ ওয়ার্ডে বা নার্সদের মাধ্যমে রোগীদের শরীরে পুশ করার নিয়ম নেই। এই ওষুধ প্রয়োগের জন্য বিশেষ চিকিৎসা তত্ত্বাবধান প্রয়োজন হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুই রোগীকেই নাক, কান ও গলা বিভাগের অপারেশনের জন্য ভর্তি করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজনের থাইরয়েডের অপারেশন হওয়ার কথা ছিল এবং অপরজনের নাক, কান ও গলার অপারেশন নির্ধারিত ছিল।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি হাসপাতালজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত রোগীদের স্বজনরা হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও নার্সদের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সামান্য ভুলে দুইটি তাজা প্রাণ ঝরে গেল, যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত নার্স মোনালি দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের মতে, হাসপাতালের কিছু নার্স রোগীদের অভিযোগ বা কথাবার্তা গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়ে আগেও নানা অভিযোগ ছিল। এ ঘটনার পর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ এ কে এম মশিউর মুনীর বলেন, দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় তিন সদস্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।