বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের স্টিমার ঘাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) কাজী শাওনকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, যে ঘটনার কারণে তাকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে, সেই ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না এবং বিষয়টি সম্পর্কেও তার জানাশোনা ছিল না।
জানা গেছে, স্টিমার ঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই এসআই কাজী শাওন ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অপরাধ দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। মাদক, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা এবং পুলিশের তৎপরতা বাড়ানোর মাধ্যমে এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি কাজ করে আসছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সুত্র জানায়, সোমবার রাতে বরিশাল নগরীর চাঁদমারি এলাকায় এক পুরিয়া গাঁজাসহ আলিম ও রাকিব নামে দুই ব্যক্তিকে আটক করেন স্টিমার ঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই বোরহানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য।
অভিযোগ রয়েছে, আটকের পরপরই বোরহানের মোবাইল ফোনে চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজি ফোন করে আটক দুজনকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করেন। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-আটকের সময় ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই কাজী শাওন ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি বাসায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। ফলে আটক, ছেড়ে দেওয়া কিংবা কথিত লেনদেনের বিষয়টি তার অগোচরেই ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
এরপরও পরদিন এসআই কাজী শাওনকে সাময়িক বরখাস্ত করে বরিশাল পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে-ঘটনার বিষয়ে অবগত না থাকা এবং ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকা একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন এমন ব্যবস্থা নেওয়া হলো?
অন্যদিকে অভিযোগ রয়েছে, গাঁজাসহ আটক দুই ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা ১ হাজার ৭০০ টাকা নিয়েছেন। তবে বিষয়টিও অস্পস্ট।
সচেতন মহলের দাবি, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে ঘটনার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা পূর্বজ্ঞান ছিল কি না-এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে এসআই শাওন দায়িত্ব পাওয়ার পর এলাকায় অপরাধ দমনে সক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে যে ইতিবাচক ধারণা রয়েছে, সেটিও তদন্তের সময় বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে অপরাধে সরাসরি জড়িত ব্যক্তি ও দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নন-এমন কোনো কর্মকর্তাকে যেন অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।