সারা দেশের সাথে একযোগে বরিশালেও ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পুরো দেশে রাস্তার পাশে খোলা জায়গায় পেট্রোল ও ডিজেল বিক্রি সাময়িক বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ১২ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে সড়কের পাশে ড্রাম, বোতল, জেরিক্যান বা ভ্রাম্যমাণ কোনো মাধ্যমে জ্বালানি বিক্রি করা যাবে না। নির্ধারিত পেট্রোল পাম্পগুলো স্বাভাবিকভাবে সেবা দিতে পারবে, তবে সিসিটিভি, অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা তদারকি জোরদার রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সড়কের পাশে অবাধে জ্বালানি বিক্রির সুযোগকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া উইংয়ের উপ-পুলিশ কমিশনার জানান, “জননিরাপত্তাই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার। সম্ভাব্য অপব্যবহার রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী নির্দেশনা আসবে।”
-মাঠে নিরাপত্তা জোরদার:
গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন।
মহাসড়ক, সেতু, টার্মিনাল এলাকায় চেকপোস্ট বৃদ্ধি।
সন্দেহজনক গতিবিধিতে কঠোর নজরদারি। সাইবার মনিটরিং ও গোয়েন্দা নজর বৃদ্ধি।
পেট্রোল বিক্রেতাদের জন্য নির্দেশনা,রাস্তার পাশে বোতল/ড্রামে পেট্রোল-ডিজেল বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইন অমান্য করলে তাৎক্ষণিক জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা। বৈধ পাম্প ছাড়া জ্বালানি সংরক্ষণ ও বিক্রি করা যাবে না। সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নাগরিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে,“সন্দেহজনক কিছু দেখলে দ্রুত ৯৯৯ এ কল করুন, গুজবে কান দেবেন না, আতঙ্ক ছড়াবেন না। আপনার সচেতনতা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে।”
ঘোষণার পর থেকে ১৩ নভেম্বর নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা আলোচনা ছড়িয়েছে। অনেকেই সিদ্ধান্তকে নিরাপত্তার স্বার্থে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলছেন, আবার কেউ কেউ ক্ষুদ্র জ্বালানি ব্যবসায়ীদের ক্ষতির আশঙ্কাও তুলছেন।
সরকার বলছে, এই পদক্ষেপ সাময়িক, প্রতিরোধমূলক এবং শুধুমাত্র জননিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নির্দেশনা তুলে নেওয়া হবে।
সতর্ক থাকুন, নিরাপদ থাকুন, গুজব নয়—শুধু সঠিক তথ্য ছড়ান।