বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবামেক) হাসপাতালের ছাত্রী নিবাসে নিরাপত্তার চরম অবনতি ঘটেছে। নিরাপত্তা কর্মীদের উদাসীন দায়িত্ব পালনের কারণে অপরিচিত পুরুষদের অবাধ যাতায়াত বাড়ায় ঘটছে মোবাইল ফোন চুরি ও নানা অপকর্ম।
গত ১৪ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে, মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি ছাত্রী নিবাসের ১ নম্বর ভবনের ১০৫ নম্বর কক্ষ থেকে দুইটি আইফোন চুরি করে নিয়ে যায়।
সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, অপরিচিত ওই পুরুষ সহজেই ছাত্রী নিবাসে প্রবেশ করে চুরির পর নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী আক্তার হোসেন ভুইয়া ও সবুর খান কিছুই টের পাননি।
চুরি হওয়া মোবাইলের মালিক শেবামেক ছাত্রী হুমায়রা বলেন,
> “আমরা ফোন হারানোর পর গেটে গিয়ে গার্ড আক্তার হোসেন ভুইয়াকে জানাই। তিনি বলেন, ‘একজন লোককে ঢুকতে দেখেছি, তবে সে সম্ভবত নির্মাণকাজের লোক।’”
ঘটনার পর আক্তার হোসেন ভুইয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অপর নিরাপত্তাকর্মী সবুর খান জানান,
> “আমি মাত্র দুই দিন আগে যোগদান করেছি। কে বা কারা ভিতরে প্রবেশ করেছে, সিসি ফুটেজ দেখে চিনতে পারিনি।”
এ বিষয়ে ছাত্রী নিবাসের ইনচার্জ ডা. ওয়াহিদা বলেন,
> “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। আমরা থানায় জিডি করেছি এবং দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছি। নির্মাণকাজ চলায় পুরুষদের আনাগোনা কিছুটা বেড়েছে, তবে আমরা দ্রুত এর স্থায়ী সমাধান করতে চেষ্টা করছি।”
অন্যদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ ফয়জুল বাসার জানান,
> “চুরির ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ছাত্রী নিবাসে যদি মুখোশধারী অপরিচিত পুরুষ ঢুকে এমনভাবে চুরি করতে পারে, তবে বড় কোনো দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে যে কোনো সময়।