বরিশাল নগরীর রসুলপুর এলাকার আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী সোহাগীকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী হিসেবে পরিচিত এই সোহাগীকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (গতকাল) রাতের অভিযানে রসুলপুরে তার নিজ বাসা থেকে সোহাগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে ৩২ পুরিয়া, প্রায় ১৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদক জব্দ করে তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কোতয়ালী থানার এসআই পার্থ। অভিযানে আরও অংশ নেন এএসআই সাইফুল, খাইরুল, বাবুল, জিয়া এবং নারী কনস্টেবল মাসুমা।
স্থানীয়ভাবে সোহাগী একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী হয়েও দীর্ঘদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নগরজুড়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়। আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও প্রতিবারই সে ও তার সহযোগীরা কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়—যা নিয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা ছিল।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সোহাগীকে ঘিরে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে নগরজুড়ে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জনমনে প্রশ্ন ওঠে—এত আলোচিত একজন অপরাধী কীভাবে বারবার আইনের হাত এড়িয়ে যায় এবং অভিযান শেষে আবার প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা শুরু করে।
ঠিক সেই প্রেক্ষাপটেই কোতয়ালী থানা পুলিশ সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সোহাগীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। যদিও উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণ তুলনামূলক কম, তবুও দীর্ঘদিন আলোচিত একজন মাদক কারবারিকে আটক করাকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।
রসুলপুর এলাকার বাসিন্দা রাকিব বলেন, মাদক কম বা বেশি বড় কথা নয়। বড় কথা হলো—যাকে কেউ ধরতে পারছিল না, তাকে অবশেষে ধরা হয়েছে। এতে মানুষ আবার আইনের ওপর আস্থা ফিরে পাবে।
সচেতন মহলের মতে, শুধু সোহাগীকে গ্রেপ্তার করলেই চলবে না; তার পুরো মাদক নেটওয়ার্ক, সহযোগী, অর্থের উৎস এবং মাদক সরবরাহ চেইন চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাহলেই মাদকবিরোধী অভিযান কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অর্থেই কার্যকর হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সোহাগীর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।