রিপোর্ট ; আসাদুজ্জামান মুরাদ
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দেশের মাটিতে পা রেখেই শান্তি, নিরাপত্তা ও সকলের অধিকার নিশ্চিত করার দৃপ্ত অঙ্গীকার উচ্চারণ করলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় রাজধানীর পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের সমাবেশে তিনি ঘোষণা করেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় ন্যায্য অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। আজ সময় এসেছে সবাই মিলে দেশ গড়ার।

এই বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়— এটি পাহাড়, সমতল, নদী, বন, ধর্ম, বর্ণ ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।
“এ দেশে যেমন পাহাড়ের মানুষ আছে, তেমনি সমতলের মানুষও আছে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ নানা ধর্মের মানুষ এখানে বসবাস করে। আমরা সবাই মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই— যে বাংলাদেশের স্বপ্ন একজন মা দেখেন।

তারেক রহমান জোর দিয়ে বলেন, তিনি এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চান যেখানে নারী, পুরুষ ও শিশুরা নিশ্চিন্তে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে।
“একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। যেখানে কেউ ভয় নিয়ে বাঁচবে না, কেউ নিপীড়নের শিকার হবে না।”
১৯৭১, ১৯৭৫, ১৯৯০ ও ২০২৪— জনগণের লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় তার বক্তব্যে উঠে আসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাস।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদরা জীবন দিয়ে বাংলাদেশ এনেছেন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জনগণ দেশকে রক্ষা করেছে। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। আর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা, কৃষক, শ্রমিক, নারী-পুরুষ সবাই মিলে আবারও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও নির্যাতিতদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ওসমান হাদিসহ যারা শহীদ হয়েছেন, যারা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন— তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমাদের দায়িত্ব।”

“I Have a Plan”— নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা
বিশ্বখ্যাত নেতা মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘I Have a Dream’-এর অনুকরণে তারেক রহমান বলেন, “I have a dream নয়, I have a plan— দেশের উন্নয়নের জন্য, মানুষের কল্যাণের জন্য আমার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা আছে।”
তিনি জনগণের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, আপনারা পাশে থাকলে ইনশাআল্লাহ আমি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব।” তিনি আরও বলেন, নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার আলোকে দেশ পরিচালনার প্রচেষ্টা থাকবে।
মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন,
“যে মানুষগুলোর জন্য আমার মা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারি না।”
তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট (৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে) এলাকায় কুড়িল মোড়সংলগ্ন স্থানে নির্মিত হয়েছে ৪৮ ফুট বাই ৩৬ ফুটের বিশাল মঞ্চ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এলাকাটি পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সকলকে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা বিশৃঙ্খলা চাই না। আমরা শান্তি চাই। শান্তিই আমাদের শক্তি।
তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়— এটি বিএনপি ও দেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দেশজুড়ে এখন একটাই প্রতিধ্বনি, সবাই মিলে করব কাজ, গড়ব মোদের বাংলাদেশ।