স্টাফ রিপোর্টার
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুমানা আফরোজকে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের পরিকল্পিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব পালনকালে তার সততা, স্বচ্ছতা ও জনমুখী প্রশাসনের নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরে এসব অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ জনগণ।
জানা গেছে, দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে রুমানা আফরোজ প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় কঠোর পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতা বজায় রেখেছিলেন। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়দের দাবি, তিনি কোনো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ব্যক্তিগতভাবে এক টাকাও গ্রহণ করেননি, বরং সরকারি বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে কঠোর নজরদারি বজায় রেখেছেন।
এছাড়া সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করেছেন। ভূমি সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম, ভিজিএফ-ভিজিডি বিতরণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তার সরাসরি তদারকি ছিল দৃশ্যমান। অনেক ক্ষেত্রে তিনি মানুষের সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিয়েছেন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানের নজির স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, একজন দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে রুমানা আফরোজ দ্রুতই মানুষের আস্থা অর্জন করেন। প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের যে দূরত্ব ছিল, তা কমিয়ে আনতে তার ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।
তবে সম্প্রতি একটি মহল তার এই ইতিবাচক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল কিংবা পূর্বের কোনো বিরোধের জের ধরে এ ধরনের অপতৎপরতা চালানো হতে পারে।
এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা তাকে কাছ থেকে দেখেছি এবং তার কাজের সাক্ষী। তিনি একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও মানবিক কর্মকর্তা ছিলেন। তার বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
সচেতন মহল মনে করছে, এ ধরনের অপপ্রচার শুধু একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করে না, বরং জনসেবামূলক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তারা দ্রুত এসব অপপ্রচারের উৎস খুঁজে বের করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, সত্য তথ্য যাচাই করে জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং গুজব-অপপ্রচার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।