বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও গণতন্ত্রের প্রতীক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক জানাজায় অংশ নিয়ে গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় নতজানু হয়েছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে দলটির নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী বিভিন্ন যানবাহনে করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। কালো ব্যাজ, জাতীয় পতাকা ও বিএনপির দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে তারা শোক ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে দেশনেত্রীর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
রাজধানীর নির্ধারিত জানাজাস্থলে পৌঁছে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজে অংশ নেন। জানাজা শেষে তারা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশগ্রহণ করেন। অনেক নেতাকর্মীকে চোখের পানি ধরে রাখতে না পেরে আবেগে ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এক নেতা বলেন,
“দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যিনি আজীবন আপসহীন ছিলেন, সেই আপসহীন নেত্রীর জানাজায় অংশ নেওয়া আমাদের জন্য এক ঐতিহাসিক দায়িত্ব। আমরা আজ একজন মা, একজন অভিভাবক ও একজন মহান নেত্রীকে হারালাম।”
আরেক নেতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন এদেশের নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল। তার আদর্শই আমাদের রাজপথের প্রেরণা।
জানাজার পর বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সংক্ষিপ্ত শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতারা বলেন, দেশনেত্রীর রেখে যাওয়া আদর্শ ও সংগ্রামের পথ অনুসরণ করেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চলবে তার স্মৃতিকে ধারণ করেই।
শোকসভা শেষে বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দেশনেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
এই ঐতিহাসিক জানাজায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে বরিশাল মহানগর ছাত্রদল আবারও প্রমাণ করেছে—দলের দুঃসময়ে ও শোকের মুহূর্তে তারা রাজপথের পাশাপাশি হৃদয় দিয়েও দেশনেত্রীর পাশে রয়েছে।