জুলাই বিপ্লবের অন্যতম অগ্র সৈনিক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও বজ্রকণ্ঠের প্রতিবাদী নেতা শরীফ ওসমান হাদী আর নেই। তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর মৃত্যুতে দেশজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া, একই সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর হারানোর বেদনা ও ক্ষোভ।
বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, গুরুতর আহত অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন তিনি।
শরীফ ওসমান হাদী ছিলেন সাহস, প্রতিবাদ ও সত্যনিষ্ঠার প্রতীক। বজ্রকণ্ঠে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এই নেতা অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের কাছে আশার নাম হয়ে উঠেছিলেন।
জুলাই বিপ্লব আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন, ন্যায়ের প্রশ্নে আপোষ নেই, ভয় নয়—প্রতিরোধই পথ।
হাদীর বক্তব্যে ছিল আগুন, কিন্তু সেই আগুন ছিল অন্যায়, দমন-পীড়ন ও দায়মুক্তির বিরুদ্ধে। দল-মত নির্বিশেষে বহু মানুষ তাঁর কণ্ঠে নিজেদের না-বলা কথা খুঁজে পেতেন।
হাদীর ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনার পর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ছাত্র সংগঠন মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
তাঁর মৃত্যুর খবরে সেই ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সচেতন নাগরিকরা বলছেন, প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচার চাই। দায়মুক্তি নয়, দ্রুত বিচার চাই।
হাদীর মৃত্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই লিখছেন, আল্লাহ একজন হাদীকে নিয়ে গেছেন, কিন্তু রেখে গেছেন লাখো হাদী, যারা মাথা নত করবে না।
বক্তব্যে আরও উঠে এসেছে, আজ থেকে যে যেখানে আছেন, সেখান থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ হয়ে ওঠার অঙ্গীকার।
সচেতন মহল মনে করছে, হাদীর রক্ত কেবল একটি ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়—এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় পরীক্ষা।
তাঁদের ভাষায়, দোষীদের শনাক্ত করতে হবে। দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে হবে।আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি কার্যকর করতে হবে।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হলে ভবিষ্যতে আরও কণ্ঠ স্তব্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা সতর্ক করছেন।
শরীফ ওসমান হাদী নেই—কিন্তু থেমে যায়নি তাঁর কণ্ঠ।
থেমে যায়নি ন্যায়ের দাবি, প্রতিবাদের ভাষা।
হাদীর রক্ত বৃথা যেতে পারে না।
আইনের মাধ্যমে, রাষ্ট্রের দায়িত্বে—ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতেই হবে।