সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ছোট বাসাইল গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে জহিরুল শিকদার (৩৯) নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল শিকদার উপজেলার ছোট বাসাইল গ্রামের আব্দুর রশিদ শিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছোট বাসাইল গ্রামের জহিরুল শিকদারের সঙ্গে একই গ্রামের আনিচ শিকদারের ছেলে সিন্টু শিকদার ও সান্ত শিকদার, জাহাঙ্গীর শিকদারের ছেলে জুয়েল শিকদার এবং মৃত চান্দু শিকদারের ছেলে জাহাঙ্গীর শিকদারসহ কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এর জেরে বুধবার সকাল প্রায় ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিষয়টির আপস-মীমাংসা করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে বুধবার গভীর রাতে জহিরুল শিকদারকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ির পাশের একটি সড়কে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিবারের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মনি বেগম বাদী হয়ে সিন্টু শিকদারকে প্রধান আসামি করে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আগৈলঝাড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের বড় ভাই এনামুল শিকদার বলেন, “সকালের সংঘর্ষের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছিল। কিন্তু রাতে আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি সান্ত শিকদার (২২) ও জাহাঙ্গীর শিকদার (৫৮)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।