সৈয়দ নুর আহসান, গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার বীরমোহন উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অপসারণের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তাদের সহপাঠীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ। পরে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
অভিযোগে জানা যায়, বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করতেন। সেই সুযোগে তিনি আপত্তিকর আচরণ ও কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা। এছাড়া শ্রেণিকক্ষেও বিভিন্ন সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের হয়রানির অভিযোগ থাকলেও সামাজিক সংকোচ ও লোকলজ্জার কারণে অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি। সম্প্রতি একাধিক শিক্ষার্থীর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিদ্যালয়ে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, “শিক্ষক আমাদের শ্রদ্ধার মানুষ। কিন্তু এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দেব।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকন বলেন, “এ পর্যন্ত দুইজন শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক আজাদ হোসেন হাওলাদার বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। তদন্তেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিয়া সুলতানা বলেন, “অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামানকে সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালাহ্ উদ্দিন আকনকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”