1. admin@dailybarishalmukhopatro.com : admin-barishal :
  2. adminaminalamin@gmail.com : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র : দৈনিক বরিশাল মুখপত্র
শিরোনামঃ
হেফাজতের মিথ্যাচার ও হুমকির প্রতিবাদে বরিশালে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন পটুয়াখালীতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের মশাল মিছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন বরিশালে রোগী ধরার দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ; কমিশনের ফাঁদে অসহায় রোগী, ঝাড়ুদার শাহিনের আদলে পরিচালিত ডজনখানেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—তদন্তের দাবি বরিশাল নগরীর সদর রোডে রোগী বাণিজ্য: দালালদের অভয়ারণ্য, নেপথ্যে কারা? বাকেরগঞ্জে জমি প্রতারণা মামলায় দুই আসামি গ্রেপ্তার বরিশালে নিখোঁজ রফিকুল ইসলামের সন্ধান চায় পরিবার! আগৈলঝাড়ায় ফুটবল খেলার সময় বলের আঘাতে মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু বাবুগঞ্জে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬ পালিত বিনা পারিশ্রমিকে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাশে থাকার ঘোষণা দিলেন মুকিত স্যার বরিশাল ডায়াবেটিক সমিতির ৫ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক কমিটি অনুমোদন ; বরিশালের সাংসদ অ্যাডভোকেট মোঃ মজিবর রহমান সরোয়ারকে আহবায়ক ;  সদস্য এ.কে.এম. জাহিদুল কবির

বরিশালে রোগী ধরার দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ; কমিশনের ফাঁদে অসহায় রোগী, ঝাড়ুদার শাহিনের আদলে পরিচালিত ডজনখানেক ডায়াগনস্টিক সেন্টার ঘিরে গুরুতর অভিযোগ—তদন্তের দাবি

✍️ আসাদুজ্জামান মুরাদ ✍
  • প্রকাশিত সময় সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৫ বার পড়েছেন

রিপোর্ট আসাদুজ্জামান মুরাদ

বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড ও আশপাশের এলাকায় চিকিৎসাসেবা নিতে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনদের টার্গেট করে একটি সংঘবদ্ধ রোগী ধরার দালালচক্র হারুদার শাহিনের আদলে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল, চিকিৎসকের চেম্বার ও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আশপাশে অবস্থান নিয়ে দালালরা গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগীদের নানা প্রলোভন ও ভুল তথ্য দিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব রোগী পাঠানোর বিনিময়ে কোনো কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার দালালদের মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়ে থাকে। ফলে রোগীর প্রকৃত চিকিৎসা প্রয়োজনের পরিবর্তে কমিশননির্ভর পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে অসুস্থ মানুষ চিকিৎসার আশায় নগরীতে এসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বিশেষ করে ঝাড়ুদার শাহিনের আদলে নগরীর ঈশ্বর বসু রোডের মেডিনোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মিঠু এবং বগুড়া রোড এলাকার ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকসহ ঝাড়ুদার শাহিনের আদলে পরিচালিত ডজনখানেক  প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দালালনির্ভরভাবে রোগী সংগ্রহ ও অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য জানা এবং নথিপত্র যাচাই করা জরুরি।

স্থানীয়ভাবে মাসুম, দেলোয়ার, মিজান, ইমন, সুমন, শাহ আলম, তপনসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে রোগী ধরার অভিযোগ রয়েছে। নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকাতেও কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালালকে নিয়ন্ত্রণ ও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার বিনিময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নাম ব্যবহার করে মাসিক অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এমনকি কোতোয়ালি থানা, ডিবি ও সিটিএসবির নামে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগও উঠেছে।

আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—একটি জাতীয় দৈনিকের বরিশাল ব্যুরো প্রধান এবং একটি সাংবাদিক সংগঠনের নেতার পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাবশালী একটি মহল কথিত দালালচক্রকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। কে অর্থ আদায় করছে, কার কাছে অর্থ যাচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্য এর সঙ্গে জড়িত কি না—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি, সাংবাদিক বা পুলিশ সদস্যকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগ ওঠা ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর লাইসেন্স, চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্টের বৈধতা, পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান, রিপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়া এবং রোগীপ্রতি কমিশন দেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগ রয়েছে, নামমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রে কিংবা বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়াই পরীক্ষা করানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু ভোক্তা প্রতারণা নয়, জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবার ক্ষেত্রেও গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এত অভিযোগ ও আলোচনা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?

বরিশালবাসীর দাবি, প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে রোগী ধরার দালালচক্রের কার্যক্রম তদন্ত করুক। একই সঙ্গে যেসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর কাগজপত্র ও সেবার মান যাচাই করা হোক।

চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। অসুস্থ মানুষকে কমিশন বাণিজ্যের হাতিয়ার বানানোর সুযোগ কোনোভাবেই থাকা উচিত নয়। অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি।

এখন দেখার বিষয়, বরিশাল নগরীর সদর রোডসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় রোগী ধরার অভিযোগে প্রশাসনের নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হয়। বরিশালবাসীর প্রত্যাশা—নগরীর চিকিৎসা খাত দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে স্বচ্ছ, নিরাপদ ও জবাবদিহিমূলক চিকিৎসাসেবার পরিবেশ ফিরে পাবে।

ফটোকার্ড বানান

নিউজটি ফেসবুকে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

[ramadan_somoysuci]

© All rights reserved © 2025 dailybarishalmukhopatro.com