প্রাচ্যের ভেনিস’খ্যাত বরিশালকে কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও বাণিজ্যিক-পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন বরিশাল মহানগরের সদস্য সচিব এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার।
বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, কীর্তনখোলা নদীর দুই তীরকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতায় এনে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বউক) ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে একটি বাস্তবমুখী, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এই পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে কীর্তনখোলা নদী।
তিনি বলেন, নদীর দুই তীরে পরিকল্পিত অবকাঠামো, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র, বিনোদন সুবিধা ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে কীর্তনখোলাকে শুধু একটি নদী হিসেবে নয়, বরং বরিশালের অর্থনীতি, পর্যটন ও নগর উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজে লাগানো সম্ভব।
নগরীর পরিবেশ, ভারসাম্য ও বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বৃহৎ শিল্প-কারখানা ও শিল্পাঞ্চল বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে পরিকল্পিত শিল্প জোনে স্থাপনের প্রস্তাবও দেন তিনি।
তার মতে, এসব শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে নগরীর উন্নত ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নগরকেন্দ্রে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক, করপোরেট ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা যেতে পারে।
নদীর দুই তীরে গড়ে উঠবে আধুনিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র
এম. আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, নগরীর দাপ্তরিক, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য নদীর দুই তীরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে বহুতল ভবন, আধুনিক অফিস কমপ্লেক্স ও বাণিজ্যিক স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
এতে একদিকে বরিশালের নগর সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বাড়বে, অন্যদিকে কীর্তনখোলা নদীকে ঘিরে গড়ে উঠবে একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় বাণিজ্যিক নগরকেন্দ্র।
তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক, পর্যটন ও শিল্পাঞ্চল নির্ধারণ করা গেলে বরিশালের জন্য একটি বাস্তবমুখী, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে।
কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে বরিশালের দুই তীরের সমন্বিত উন্নয়ন, আধুনিক বাণিজ্যিক অবকাঠামো, পর্যটন সম্ভাবনা, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা ও শিল্পাঞ্চল নিয়ে এম. আনোয়ার হোসেন সিকদারের পূর্ণাঙ্গ আধুনিক ও বাণিজ্যিক নগরী গড়ার প্রস্তাব শিগগিরই আসছে।
তার প্রত্যাশা, পরিকল্পিতভাবে কীর্তনখোলার দুই তীরের উন্নয়ন করা গেলে বরিশালকে দেশের অন্যতম আধুনিক, নান্দনিক, বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।