বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে পরিচালিত একটি ইটভাটায় যৌথ অভিযান চালিয়ে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে উপজেলা প্রশাসন। একইসঙ্গে ভাটাটির দুটি ড্রাম চিমনি গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতকৃত কাঁচা ইট পানি দিয়ে নষ্ট করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১২টা ২০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুতকাঠি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), বরিশাল জেলা কার্যালয়ের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুন্নাহার তামান্নার নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন ও এনএসআই যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে “কেয়ার ইট ভাটা”র স্বত্বাধিকারী মো. মেহেদী হাসানকে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ধারা ৫(খ) লঙ্ঘনের দায়ে ধারা ১৫(খ) অনুযায়ী ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া অবৈধভাবে স্থাপিত দুটি ড্রাম চিমনি ভেঙে ফেলা হয় এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ভাটায় প্রস্তুতকৃত কাঁচা ইট পানি দিয়ে নষ্ট করা হয়।
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে লাইসেন্সবিহীন ড্রাম চিমনি ব্যবহার, অবৈধ স-মিল স্থাপন করে কাঠ পোড়ানো, অনুমোদন ছাড়া অতিরিক্ত ভূমি ব্যবহার এবং জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়াই নদীর পাড় থেকে মাটি কেটে ইট তৈরি করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানে জেলা এনএসআই বরিশাল কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বাবুগঞ্জ থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গোয়েন্দা সদস্যরা জানিয়েছেন, পরিবেশবিধ্বংসী ও অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে তাদের গোপন নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।