মঙ্গলবার (১২ মে) ডাক ও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ভুক্তভোগী বেলাল হাং।
অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন একই থানায় দায়িত্ব পালন করায় এসআই আবদুল জলিল বিভিন্ন অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন। জুয়া আসর পরিচালনায় সহায়তা, অবৈধ রেণুপোনা পাচারসহ নানা অভিযোগেও তার নাম উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী বেলাল হাং অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। তার বাবা মোতালেব হাং ২০২৪ সালে মারা যাওয়ার পর পরিবারের বসবাসরত সরকারি খাস জমি দখল নিয়ে বিরোধ শুরু হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বড় বোন মিনারা ও তার স্বামী নয়ন ভুয়া স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বসতঘর দখল করে প্রতিবন্ধী বোন ও ভাইকে ঘর থেকে বের করে দেয়।
পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদে সালিশে মিনারাকে ২ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কয়েক মাস পরে ওই টাকা নিয়ে গেলে মিনারা, নয়ন ও তাদের সহযোগীরা বেলালকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় তিনি মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা (নং-১৮/২০২৬) দায়ের করেন।
বেলালের অভিযোগ, মামলাটি তদন্তে গেলে এসআই আবদুল জলিল প্রথমে তার কাছ থেকে মামলার খরচের কথা বলে টাকা নেন। পরে অভিযুক্ত পক্ষের কাছ থেকে আরও ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে প্রকৃত তদন্ত ছাড়াই আদালতে তার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তিনি দাবি করেন, মামলার সাক্ষীদের কারো সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা কথা বলেননি। বরং সাক্ষীদের ‘ভুয়া জবানবন্দি’ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে তার কাছে কল রেকর্ডসহ বিভিন্ন প্রমাণ রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী বেলাল সাংবাদিকদের বলেন,
“এসআই জলিলকে ফোনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি থানায় এসে সরাসরি কথা বলতে বলেন। তিনি দীর্ঘ ৮ বছর ধরে বন্দর থানায় চাকরি করছেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হয়ে ঘুষ নিয়ে মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া আইন ও দায়িত্বের পরিপন্থী।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই আবদুল জলিল বলেন, “থানায় এসে দেখা করে কথা বলতে হবে। তদন্তে কিছু ভুল হয়েছে।” এছাড়া ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার কথাও তিনি বলেছেন বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভুক্তভোগীর মামলার একাধিক সাক্ষী জানিয়েছেন, তদন্ত কর্মকর্তা তাদের কারো সঙ্গে ফোনে বা সরাসরি যোগাযোগ করেননি। অথচ আদালতে তাদের নামে জবানবন্দি দাখিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন এলাকায় প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলা ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।