মাছুদুর রহমান আসলাম।
সংসার, সম্পর্ক ও জীবনের টানাপোড়েনে মানবেতিহাসে সম্পর্কের নানা রূপ দেখা যায়। কর্মক্ষমতা ও সামাজিক সফলতার ওপর ভিত্তি করে মানুষের প্রতি পারিপার্শ্বিক আচরণের পরিবর্তন এক নিত্যদিনের বাস্তবতা। সম্প্রতি পারিবারিক জীবনের এই কঠোর বাস্তবতা ও মায়ের চিরন্তন ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গভীর বার্তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উঠে আসে জীবনের এক নির্মম সমীকরণ। পুরুষ যতক্ষণ উপার্জনক্ষম থাকেন এবং পরিবারে আর্থিক যোগান দিতে পারেন, ততক্ষণ সংসারের সম্পর্কগুলোতে এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ও অনুগত্য বজায় থাকে। কিন্তু সময়ের ঘূর্ণাবর্তে মানুষের আয়-রোজগার কমে গেলে বা শারীরিক অক্ষমতা চলে এলে অনেক সময় স্ত্রী কিংবা সন্তানসহ কাছের মানুষের আচরণে ব্যবধান দেখা যায়। সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণেও দেখা যায়, বিপদে পড়ে স্বামী অসহায় বা অক্ষম হয়ে পড়লে কিছু ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে জীবনসঙ্গী মুখ ফিরিয়ে নিতেও দ্বিধা করেন না।
তবে অন্যান্য সম্পর্কের সঙ্গে মায়ের সম্পর্কের পার্থক্য এখানেই স্পষ্ট হয়। মায়ের ভালোবাসা কোনো আর্থিক দেনাপাওনা বা উপার্জনের পরিমাপকের ওপর নির্ভর করে না। সন্তান জীবনের যে পর্যায়ই থাকুক না কেন, মায়ের কাছে সে চিরকালই সেই স্নেহের ছোট সন্তান। সন্তানের বিপদে অশ্রুপাত করা এবং তাঁর মঙ্গল কামনায় নিরন্তর প্রার্থনা করাই মায়ের সহজাত ধর্ম।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, পারিবারিক জীবনে প্রতিটি সম্পর্কের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও ভূমিকা রয়েছে। স্ত্রীকে সম্মান জানানোর পাশাপাশি কোনো অবস্থাতেই সাময়িক প্ররোচনা বা সম্পর্কের মোহে পড়ে জন্মদাত্রী মাকে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। কারণ, জীবনে কোনো বিপর্যয় ঘটলে কিংবা অকালমৃত্যু হলে অন্য যেকোনো সম্পর্কের মানুষ হয়তো একসময় নিজের পথ গুছিয়ে নেয়, কিন্তু মায়ের বুক খালি হলে সেই শূন্যতা ও অশ্রু চিরকাল থেকে যায়।
তাই পারিবারিক টানাপোড়েনের মাঝেও মায়ের নিঃস্বার্থ অবস্থান ও ভালোবাসাকে সবার ওপরে স্থান দেওয়া প্রতিটি সন্তানের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।