বয়স ৫৭ বছর। নাম সুমন চন্দ্র। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে শিশুদের পোশাক বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তিনি। হাতে করে পোশাক নিয়ে নগরীর অলিগলি ও বিভিন্ন এলাকায় ছুটে চলাই তার নিত্যদিনের কাজ।
সুমন চন্দ্রের সংসারে স্ত্রী ও দুই ছেলে। বড় ছেলে চানাচুর বিক্রি করে সংসারে সহযোগিতা করেন। আর ছোট ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। সীমিত আয়ের মধ্যেই নানা কষ্টে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি।
তবে বর্তমানে অসুস্থতার কারণে আগের মতো বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে পোশাক বিক্রি করতে পারছেন না সুমন। ফলে বন্ধ রয়েছে তার ক্ষুদ্র ব্যবসা। এতে পরিবার নিয়ে আরও সংকটের মধ্যে পড়েছেন তিনি।
সৎভাবে জীবনযাপন করতে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে পণ্য বিক্রি করে আসা সুমনের অসহায়ত্ব ও সংগ্রামের বিষয়টি নজরে আসে ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপের আহ্বায়ক এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের বরিশাল আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজের। সুমনের এমন পরিস্থিতিতে তার পাশে দাঁড়ান সাজ্জাদ পারভেজ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সুমন চন্দ্রকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল নগরীর সিটি মার্কেটের পাইকারি পোশাকের দোকানে যান তিনি। সেখানে সুমনের ব্যবসা পুনরায় সচল করা এবং ব্যবসাটি ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় শিশুদের পোশাক কিনে দেন সাজ্জাদ পারভেজ।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত সুমন চন্দ্র বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে ঘুরে ঘুরে বাচ্চাদের পোশাক বিক্রি করে সংসার চালাই। অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুদিন ধরে ব্যবসা করতে পারছিলাম না। এখন আবার পোশাক পেয়েছি, ব্যবসা শুরু করতে পারব। আমার মতো একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাজ্জাদ পারভেজ যে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আমি অনেক খুশি ও কৃতজ্ঞ।
সুমন আরও বলেন, “আমি কারও কাছে হাত পেতে সাহায্য চাই না। নিজের পরিশ্রম করে সৎভাবে সংসার চালাতে চাই। এই সহযোগিতায় আমার আবার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আমি চাই, যতদিন পারি পরিশ্রম করে নিজের ও পরিবারের দায়িত্ব পালন করতে।
সুমনের হাতে ব্যবসার জন্য পোশাক তুলে দিয়ে সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, অসহায় ও পরিশ্রমী মানুষের পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার দায়িত্ব। সুমন চন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে সৎভাবে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তার ব্যবসা যাতে আবার সচল হয়, সেই লক্ষ্যেই সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা হয়েছে।
সুমন চন্দ্রের মতো পরিশ্রমী ও অসহায় মানুষের পাশে ৮৪ ইভেন্ট গ্রুপ দাঁড়িয়ে তাদের স্বাবলম্বী করার এই উদ্যোগ বরিশাল জুড়ে প্রশংসিত।