নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করেছেন হাফিজে কুরআন মুহাম্মাদ নূরুদ্দিন জাকারিয়া। তাঁর এই অনন্য সাফল্যে দেশবাসী গর্বিত হলেও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে রাষ্ট্রীয়ভাবে এখনো কোনো মর্যাদা বা আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা না দেওয়ায় বিভিন্ন মহলে আক্ষেপ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বজয়ী হাফেজ মুহাম্মাদ নূরুদ্দিন জাকারিয়া এবং তাঁর উস্তাদ মুফতী আব্দুল কাইয়ুম মোল্লা, প্রিন্সিপাল, আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসাকে পীর সাহেব হুজুর চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির পীর সাহেব চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে তাঁদের সম্মাননা জানানো হয়।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথম হয়ে নূরুদ্দিন জাকারিয়ার এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। কুরআন হিফজ ও তেলাওয়াতের নৈপুণ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেরা হয়ে তিনি দেশের ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
তবে সাফল্যের পরও রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর খোঁজখবর না নেওয়া এবং আনুষ্ঠানিক সম্মাননা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দেশবাসীর একাংশের আক্ষেপ—আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করা একজন তরুণ হাফেজের এমন অর্জন রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়িত হবে না কেন?
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নূরুদ্দিন জাকারিয়ার এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তাঁর পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উস্তাদ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের জন্য গৌরবের বিষয়। তাঁর এই অর্জন দেশের কুরআন শিক্ষার্থী ও হাফেজদের আরও বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।
নূরুদ্দিন জাকারিয়ার এই বিশ্বজয়ের পেছনে তাঁর উস্তাদ মুফতী আব্দুল কাইয়ুম মোল্লার অবদানও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে তিনি নূরুদ্দিনসহ শিক্ষার্থীদের কুরআন শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এদিকে পীর সাহেব হুজুর চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনায় বিশ্বজয়ী হাফেজ নূরুদ্দিন জাকারিয়া ও তাঁর উস্তাদ মুফতী আব্দুল কাইয়ুম মোল্লাকে অভিনন্দন জানানো হয়। তাঁদের এই অর্জন বাংলাদেশের জন্য সম্মান ও গৌরবের বলে উল্লেখ করা হয়।
দেশবাসীর প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় ১৩৩ দেশের মধ্যে প্রথম হয়ে বাংলাদেশের নাম বিশ্বদরবারে উজ্জ্বল করা হাফেজ মুহাম্মাদ নূরুদ্দিন জাকারিয়ার অসামান্য সাফল্যকে রাষ্ট্রীয়ভাবেও মূল্যায়ন করা হবে এবং তাঁকে যথাযথ সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।