বরিশালে সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহিনের ওপর হামলার অভিযোগে রেজওয়ান সৈকতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হামলার ঘটনায় বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাবিব মেডিকেল ফার্মেসির এক স্টাফ জানান, ঘটনার রাতে রেজওয়ান সৈকত তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ওই ফার্মেসিতে ওষুধ কিনছিলেন। একই সময়ে সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহিন ওষুধ কিনতে সেখানে গেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে তার ল্যাপটপের সঙ্গে সৈকতের স্ত্রীর ধাক্কা লাগে।
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রেজওয়ান সৈকত সাংবাদিক শাহিনের ওপর হামলা করেন বলে ওই স্টাফ দাবি করেন। তার ভাষ্য, অনিচ্ছাকৃত একটি ঘটনায় এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন ইসলাম বলেন, হামলাকারী রেজওয়ান সৈকতকে পুলিশ আগে থেকেই খুঁজছিল। তার বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্টের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ওসি আরও জানান, এসব মামলায় রেজওয়ান সৈকতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে সাংবাদিক আকতার ফারুক শাহিনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বরিশালের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। একই সঙ্গে হামলাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে, বরিশাল প্রেস ক্লাব, বরিশাল টেলিভিশন ও মাল্টিমিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ), সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক ফোরাম এবং বরিশাল সংবাদপত্র সম্পাদক পরিষদ।
সাংবাদিক নেতারা বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা শুধু ব্যক্তির ওপর হামলা নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।